দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকমাস ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টি হচ্ছে অসমে। ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পূর্ব ভারতের এই রাজ্য। ৩৩টি জেলার মধ্যে জলের তলায় ডুবে রয়েছে ২৬টি জেলা। নিজেদের সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন ২৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ভিটেমাটি, বাড়িঘর, চাষের জমি, গবাদি পশু-----বেঁচে থাকার ন্যূনতম সম্বলটুকুও হারিয়েছেন তাঁরা। এ যাবৎ অসমে বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। শনিবার বরপেটা জেলায় ২ জন এবং দক্ষিণ সালমার জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। ১০৫ জন মৃতের মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধসে। বন্যার জল ছাড়াও ভূমিধসের জেরে ভেঙে গিয়েছে ওয়ামের অসংখ্য রাস্তাঘাট। অধিকাংশ জেলাতেই বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে অসমের প্রধান নদ ব্রহ্মপুত্র।
বন্যায় পরিস্থিতি খুবই খারাপ কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক এবং টাইগার রিজার্ভের। চলতি বছর বর্ষার মরশুমে কাজিরাঙায় ৯০টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, কাজিরাঙার প্রায় ৯০ শতাংশ ডুবে গিয়েছে বন্যার জলে। প্রাণ বাঁচাতে মাঝে মাঝে গণ্ডার এবং বাঘ সেখান থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে চলে যাচ্ছে। ছবিটা একই রকম পবিতরা জাতীয় উদ্যানের ক্ষেত্রেও।
অসমের স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি তাদের রিপোর্টের জানিয়েছে, পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে ধীমাজি, লখিমপুর, বিশ্বনাথ, সোনিতপুর, দারাং, বাকসা, নলবাড়ি, বরপেটা, চিরাং, বঙ্গাইগাঁও, কোকড়াঝার, ধুবড়ি, দক্ষিণ সালমারা, গোয়ালপাড়া, কামরূপ, কামরূপ মেট্রোপলিটন, মোরিগাঁও, নওগাঁও, গোলাঘাট, জোরহাট, মাজুলি, শিবসাগর, ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া, কার্বি আলং এবং কাছাড় জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, বরপেটা এবং মোরিগাঁও----এই চার জায়গায় বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ওয়ামের সমস্ত কবলিত এলাকায় দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দলের সঙ্গে উদ্ধার কাজে নেমেছে এনডিআরএফ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ জনকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৬৭৮টি গ্রাম ডুবে গিয়েছে বন্যার জলে। ১,১৬,৪০৪ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসম সরকার ২১টি জেলায় মত ৬৪৯টি ত্রাণ শিবির তৈরি করেছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৪৭,৪৬৫ জন আশ্রয় পেয়েছেন। বন্যা দুর্গতদের চাল, ডাল, সরষের তেল, নুন, বেবি ফুড, মোমবাতি, ত্রিপল, দেশলাই, মোমবাতি, মশা মারার ধূপ, মাস্ক ও আরও অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া। হয়েছে।