আহমেদাবাদে শাটডাউন, আধাসেনার টহলদারি রাস্তায়, শনিবার থেকে বন্ধ সুরাটও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে গুজরাতের আহমেদাবাদে একসপ্তাহের জন্য শাটডাউন হয়েছে। শুনশান শহরের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে যেন কার্ফু লেগেছে আহমেদাবাদে। দুধ আর ওষুধের দোকান ছাড়া বন্ধ বাকি সব দোকানপাট। শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে আধাসেনা
শেষ আপডেট: 7 May 2020 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে গুজরাতের আহমেদাবাদে একসপ্তাহের জন্য শাটডাউন হয়েছে। শুনশান শহরের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে যেন কার্ফু লেগেছে আহমেদাবাদে। দুধ আর ওষুধের দোকান ছাড়া বন্ধ বাকি সব দোকানপাট। শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে আধাসেনা। পাঁচ কোম্পানি প্যারা মিলিটারি ফোর্স ইতিমধ্যেই হাজির হয়েছে আহমেদাবাদে।
বুধবার মধ্যরাত থেকেই শাটডাউন হয়েছে আহমেদাবাদে। এক সপ্তাহের জন্য জারি থাকবে নিয়ম। অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল সকাল ৬টা পর্যন্ত দুধ আর ওষুধের দোকান ছাড়া শহরে বন্ধ থাকবে বাকি সব দোকান। মুদির দোকান, সবজি বাজার, ফলের দোকান, সুপার মার্কেট এমনকি অনলাইন খাবার ডেলিভারিও বন্ধ আহমেদাবাদে। শনিবার থেকে একই নিয়ম চালু হতে চলেছে গুজরাতের আরও একটি শহরে। আহমেদাবাদের মত সুরাটেও সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে শোনা গিয়েছে।
আহমেদাবাদ শহরের মিউনিসিপাল কমিশনার মুকেশ কুমার নোটিস দিয়ে জানিয়েছেন ৭ তারিখ মধ্যরাত থেকে ১৫ মে ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সমস্ত সবজির বাজার, ফলের দোকান, মুদি দোকান ও অন্যান্য দোকানও। সবজি বাজার এবং মুদি দোকান বন্ধ থাকলে সোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রাখা যাবে বলেই মত মিউনিসিপাল কমিশনারের। সেই সঙ্গে অনলাইন খাবার ডেলিভারি বন্ধ থাকলেও সংক্রমণ কম ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য আহমেদাবাদে নিযুক্ত হয়েছে অফিসারদের একটি নতুন টিম। পাশাপাশি শহরের বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলোও খোলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। না খুললে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে মুকেশ কুমারের আগের কমিশনার বিজয় নেহরাকে। কয়েকজন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসায় তাঁকে সেলফ আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। এরপরেই দায়িত্বে আসেন মুকেশ কুমার। তারপরেই কোভিড সংক্রমণ রুখতে আহমেদাবাদে এই শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কারণ সবজি বাজার, মুদির দোকান এবং ফলের দোকান খোলার নির্দিষ্ট টাইম বেঁধে দেওয়ার পরেও সেই সময়ের বাইরে আহমেদাবাদের বিভিন্ন দোকানের সামনে ক্রেতাদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছিল গত কয়েকদিনে। সোশ্যাল ডিসট্যান্স মাথায় তুলে রাস্তায় নেমেছিলেন অসংখ্য মানুষ। আর তাই এত কড়াকড়ি জারি হয়েছে আহমেদাবাদে।
বুধবার সন্ধে পর্যন্ত আহমেদাবাদে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৫৮। মৃত্যু হয়েছে ২৭৩ জনের। গুজরাতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৬৬২৫। সংক্রমণে গোটা রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৯৬ জনের। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫০০ জন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুসারে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৫২,৯৫২। মৃত্যু হয়েছে ১৭৮৩ জনের। আর সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫,২৬৭ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী মহারাষ্ট্রের পর গুজরাতেই করোনার প্রভাব সর্বাধিক।