দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরু গর্তের ভিতর পড়ে গিয়েছিল ছোট্ট এক হাতির ছানা। হাজার চেষ্টাতেও বেরিয়ে আসতে পারেনি। অনেক পরিশ্রমের পরেও গর্তেই আটকে ছিল সে। তবে তাকে উদ্ধার করেন বনরক্ষীরা। শুধু তাই নয়, দুর্বল হয়ে যাওয়ায় হাতিটিকে কাঁধে করে নিয়ে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেন বনরক্ষী পালানিচামি শরথকুমার।
যদিও এই ঘটনা তিন বছর আগের, ২০১৭ সালের। তবে এবছর ফের টুইটারে ভাইরাল হয়েছে শরথকুমারের কাঁধে করে হাতির ছানা বয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি। সৌজন্যে ফরেস্ট সার্ভিস অফিসার দীপিকা বাজপেয়ী। সম্প্রতি দীপিকাই টুইট করেছেন এই ছবি। ক্যাপশনে লিখেছেন, “পুরনো ছবি। গর্তে পড়ে যাওয়া হাতির ছানাকে উদ্ধার করেছিলেন তামিলনাড়ুর বনরক্ষী পালানিচামি শরথকুমার। কাঁধে তুলে হস্তিশাবককে পৌঁছে দিয়েছিলেন তার মায়ের কাছেও।“ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শরথকুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা।
https://twitter.com/dipika_bajpai/status/1249732148220723220
বিবিসি-র একটি রিপোর্ট অনুসারে ২০১৭ সালে তামিলনাড়ুর মেত্তুপালায়াম এলাকায় বনরক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন শরথকুমার। সেই সময় ১২ ডিসেম্বর তাঁর দলের কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয় একটি হাতি রাস্তা আটকে রেখেছে। খবর পেয়েই সহকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শরথকুমার। আতসবাজির সাহায্যে হাতিটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে আশেপাশে আর কোনও হাতি রয়েছে কিনা তা দেখতেই জঙ্গলে অভিযান শুরু করেন শরথকুমার ও তাঁর দলবল।
সেই সময়েই গর্তে আটকে থাকা এই বাচ্চা হাতিটি নজরে আসে। তাকে উদ্ধার করেন বনরক্ষীরা। কিন্তু হস্তিশাবকটি এতই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে সে হাঁটতেই পারছিল না। প্রাথমিক ভাবে চারজন বনরক্ষী ওই হস্তিশাবককে রাস্তা পারাপারের কাজে হাত লাগান। তবে বনরক্ষীদের অনুমান ছিল যে কাছেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছে মা হাতিটি। ফলে আচমকাই হামলা করতে পারে সে। তাই শেষ পর্যন্ত ১০০ কেজি ওজনের ওই হাতির ছানাকে কাঁধে নিয়ে একাই এগিয়ে যান শরথকুমার।
প্রায় ৫০ মিটার যাওয়ার পর একটি জলাশয়ের পাশে হাতির ছানাটিকে নামিয়ে রাখেন শরথকুমার। এরপরেই ধীরে ধীরে মায়ের কাছে ফিরে বাচ্চাটি।