দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডাইনি বিদ্যা অভ্যাস করেন এই অভিযোগে তিনজন মহিলা এবং এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করেছে গ্রামবাসীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, জনা ৫০ উন্মত্ত জনতা ঘিরে ধরেছিল চারজনকে। মহিলা বলে রেয়াত করা হয়নি তাঁদের। চারজনকে বাগে পেতেই শুরু হয় ধোলাই। সূত্রের খবর, এই চারজনকে নগ্ন অবস্থায় গ্রামের রাস্তায় হাঁটানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের গারহাওয়া জেলায়।
এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ঝাড়খণ্ডের নারায়ণপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছিল। গ্রামে গণধোলাইয়ের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ দেখেই রণর ভক্ত দেয় উন্মত্ত জনতা। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে যায় ভিড়। জটলার মধ্যে থেকেই ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আক্রান্ত তিন মহিলা এবং এক ব্যক্তিকে গণপ্রহারের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করে পুলিশ। এরপর গণপিটুনি দেওয়া ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে তারা। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ধৃত ২ ব্যক্তির নাম রবি কুমার এবং বাসুদেব। তাদের গ্রেফতার করে সাদার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রামবাসীদের কথায়, ওই গ্রামেরই বাসিন্দা বালি রাজওয়ারের দুই আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এতেই সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই তিন মহিলা এবং এক ব্যক্তির উপর। অভিযোগ তাদের ডাইনিবিদ্যা, কালা-জাদু এসবের প্রভাবেই বালি রাজওয়ারের মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই রাজওয়ার পরিবারই প্রথমে ওই তিন মহিলা এবং এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারতে শুরু করে। তাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দেয়। অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে বালি রাজওয়ারের পরিবারের বিকাশ কুমার সাউ, বাবলু রাম, রজদ পাসওয়ান, রবি কুমার রাম এবং রাজু রামের। আরও অনেকের নামই রয়েছে অভিযুক্তের তালিকায়।
কিছু গ্রামবাসী অবশ্য ব্যাপারটা থামাতে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাঁদেরকেও হঠিয়ে দেওয়া হয়। মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়। এরপরেই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। অভিযুক্তদের কেউই নিস্তার পাবে না বলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা।