দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত উপত্যকা। দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ানে রবিবার সাতসকালে খতম হয়েছে এক জঙ্গি। এলাকায় আর কোনও জঙ্গি রয়েছে কিনা তা জানতে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। যৌথ এনকাউন্টারে নিহত জঙ্গির থেকে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর নর্দান কম্যান্ড।
অন্যদিকে গোপন সূত্রে নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে খবর রয়েছে শ্রীনগরের জাদিওয়াল এলাকার জুনিমার পাজওয়াল পোরা-তে গা-ঢাকা দিয়েছে অন্তত তিনজন জঙ্গি। তাঁদের ধরতে শুরু হয়েছে অভিযান। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। ব্যাহত রয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা।
অন্যদিকে সীমান্তে ফের সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনাবাহিনী। পুঞ্চ জেলার বালাকোট সেক্টর বরাবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তানি সেনা। এছাড়া শনিবার রাজৌরি সেক্টরের কাছে সীমান্তরেখা বরাবরও মর্টার শেলিং করেছিল পাক সেনা। শোনা যায় এর জেরে আহত হয়েছিলেন চারজন সাধারণ নাগরিক। মূলত নৌশেরা সেক্টর বরাবর সীমান্তরেখায় ঘটেছে এই ঘটনা।
গতকাল ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়া পাকিস্তানি ড্রোন গুলি করে নামায় বিএসএফ। জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার কাছে আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর শনিবার ভোর ৫টা ১০মিনিট নাগাদ পাক খাচ্ছিল একটি ড্রোন। সেই সময় ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল বিএসএফের একটি গাড়ি। ড্রোন উড়তে দেখেই তৎপর হয়ে যান জওয়ানরা। তারপর গুলি করে মাটিতে নামানো হয় ড্রোন।
কাঠুয়া জেলার হিরানগর সেক্টরের কাছে রাঠুয়া এলাকায় শনিবার ভোরে দেখা গিয়েছিল ওই ড্রোন। বিএসএফের তরফে জানানো হয় পাকিস্তান থেকে এসেছিল এই ড্রোন। দেখা মাত্রই ওই ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। ভারতের ভূখণ্ডে প্রায় ২৫০ মিটার ঢুকে পড়েছিল ওই পাক ড্রোন। প্রায় ৯ রাউন্ড গুলি করে সেটিকে নামানো হয় বলে জানান বিএসএফের জওয়ানরা।
বিএসএফের তরফে জানানো হয় গুলি করে নামানোর পর ওই ড্রোন থেকে উদ্ধার করা হয় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। আমেরিকার প্রযুক্তিতে তৈরি এম-৪ রাইফেল, দুটো ম্যাগাজিন ছাড়াও উদ্ধার হয় আরও কিছু অস্ত্র। বিএসএফ জানিয়েছে, আলি ভাই নামে কোনও জঙ্গির জন্য এই অস্ত্রশস্ত্র পাঠানো হয়েছিল।
কাঠুয়া জেলার হিরানগর সেক্টরের উল্টো প্রান্তে রয়েছে পানেসর সেক্টর। সেখানকার পাক পিকেট বা পাকিস্তানি ঘাঁটি থেকেই এই ৮ ফুট চওড়া ড্রোন পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অনুমান করেছেন বিএসএফের আধিকারিকরা।
এছাড়াও গতকাল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি দিলবাগ সিং জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ মাস সুসময় এসেছে উপত্যকায়। এই সময়ের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরে খতম হয়েছে শতাধিক জঙ্গি। তাদের মধ্যে রয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন, লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের কুখ্যাত জঙ্গিরাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ক্রমশ শান্তির পথে এগোচ্ছে উপত্যকা। জঙ্গি দমন অভিযানে সফল হচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।