দ্য ওয়াল ব্যুরো: "কর্তারপুর তোমাদের মদিনা, আর নানক সাহিব হল মক্কা।"-- ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শিখ তীর্থযাত্রা নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
সম্প্রতি ভারত-পাকের মধ্যবর্তী কর্তারপুর করিডর নিয়ে দু'দেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। এই করিডরটি তৈরি হলে পাকিস্তানের কর্তারপুরের দরবার সাহিব এবং ভারতের গুরুদাসপুরের ডেরা বাবা নানক সাহিবের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। বিশেষ পারমিটের সাহায্যে ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীরা পাকিস্তানের ওই সাহিবে যেতে পারবেন। এই প্রস্তাবেই কার্যত সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দিলেন ইমরান।
লাহোরের গভর্নর হাউসে চলছে আন্তর্জাতিক শিখ কনভেনশন। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ইমরান। সেখানেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়। তিনি আরও জানান, ভারত এবং অন্যান্য দেশের শিখ ধর্মাবলম্বীরা যাতে পাকিস্তানের ধর্মীয় পুণ্যস্থানগুলি আরও বেশি করে এবং বিনা জটিলতায় ঘুরতে আসতে পারেন, সে জন্য 'অন অ্যারাইভাল ভিসা' দেওয়া হবে পাক বিমানবন্দরগুলিতে। অর্থাৎ আগে থেকে আবেদন না করলেও, পাকিস্তানের বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরে এই ভিসা দেওয়া হবে শিখদের।
ইমরান আরও বলেন, "আমি আশ্বাস দিচ্ছি, বিমানবন্দরে এলেই ভিসা দেওয়া হবে শিখদের। তাঁদের পুণ্যস্থান ভ্রমণে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেটা নিশ্চিত করাও আমাদেরই কর্তব্য। সে জন্য নানা রকম বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে তাঁদের।"
লাহোরের এই কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা শিখ ধর্মের ভক্তরা। আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা থেকে আসেন অনেকে। উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর চৌধুরী মহম্মদ সারওয়ার-ও। ইমরান খান আরও বলেন, "পুণ্য স্থানে ভ্রমণ ও পর্যটনের জন্য পাকিস্তানে এলে, অনেক পুণ্যার্থীকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি আমরা। এ সব যাতে আর না হয়, সে জন্যই এই পদক্ষেপ করছে পাক সরকার।"
সম্প্রতি পুলওয়ামা কাণ্ড ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল-সহ আরও একাধিক ইস্যুতে ভারত-পাক সম্পর্ক খুবই খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিত্য নানা বিষয়ে দ্বন্দ্বের কথা উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমে। এমন অবস্থায় শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য ইমরান খানের এই দরাজ ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে কোনও ইতিবাচক বার্তা বহন করে কি না, সেটাই দেখার।