দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের যৌন হেনস্থার অভিযোগ কেরলের বিশপ ফ্র্যাঙ্কো মুলাক্কালের বিরুদ্ধে। এবার বিশপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আরও এক সন্ন্যাসিনী।
এর আগেও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল মুলাক্কালের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় সাক্ষী ছিলেন এই সন্ন্যাসিনী। এবার তাঁর অভিযোগ, ফোনে তাঁকে নানারকম কুপ্রস্তাব দিতেন বিশপ। প্রায় দু'বছর ধরে চলেছিল এইসব। এমনকি ওই সন্ন্যাসিনী যে কনভেন্টের দায়িত্বে ছিলেন সেখানেও হাজির হয়েছিলেন মুলাক্কাল। সন্ন্যাসিনী অভিযোগ করেছেন, সেখানেই তাঁকে জাপটে জড়িয়ে ধরে জোর করে চুমু খেয়েছিলেন বিশপ ফ্র্যাঙ্কো মুলাক্কাল।
এই সন্ন্যাসিনীর কথায় ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাঁকে ফোন করে নানাভাবে উত্যক্ত্য করতেন বিশপ। এতদিন ভয়ে চুপ ছিলেন তিনি। প্রকাশ্যে আনেননি কোনও কথাই। ফোন-ভিডিও কল-চ্যাট, সবেতেই আসত কুপ্রস্তাব। তবে বিশপের ভয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাননি এই সন্ন্যাসিনী। তাই দায়ের হয়নি কোনও এফআইআরও। এর আগে সিস্টার লুসি কালাপুরা ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন বিশপ ফ্র্যাঙ্কো মুলাক্কালের বিরুদ্ধে। সেই মামলার ১৪ নম্বর সাক্ষী ছিলেন এই সন্ন্যাসিনী। ২০১৮ সালে দেওয়া একটি বিবৃতিতে সাক্ষী হিসেবে এই সন্ন্যাসিনী বলেন, ২০১৭ সালে তাঁর কনভেন্টে এসেছিলেন বিশপ। অভিযোগ, তখনই তাঁকে জাপ্টে ধরে চুমু খান ফ্রাঙ্কো মুলাক্কাল। সেসময় পুলিশ তাঁকে এফআইআর দায়ের করতে বললেও রাজি হননি সন্ন্যাসিনী।
২০১৮ সালেই প্রথম অভিযোগ ওঠে বিশপ ফ্যাঙ্কোর বিরুদ্ধে। সিস্টার লুসি কালাপুরা অভিযোগ করে বলে তাঁকে অসংখ্য বার ধর্ষণ করেছেন বিশপ। সন্ন্যাসিনীর অভিযোগ, ২০১৪ সালের মে মাসে কুরাভিলাঙ্গারের একটি গেস্ট হাউসে তাঁকে ধর্ষণ করেন ওই চার্চের বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কাল। তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে মোট ১৩ বার ধর্ষণ করেছিলেন ফাদার ফ্রাঙ্কো। তাঁকে ওই কনভেন্টে বন্দি করেও রাখা হয়। এরপর ওই বছর জুন মাসেই এফআইআর দায়ের হয় মালাক্কালের বিরুদ্ধে। ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন বিশপ ফ্র্যাঙ্কো মালাক্কাল। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে চার্জশিট পেশ হয়। একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয় বিশপের বিরুদ্ধে।