দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার ২৩ হাজার টাকার জরিমানা হয়েছে দিল্লির এক স্কুটার আরোহীর। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর এক মোটরবাইক চালককে দিতে হল ১৭ হাজার টাকার জরিমানা। আবার বুধবার সাড়ে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে ভুবনেশ্বরের এক অটোচালকের।
কেন্দ্রের নতুন ট্র্যাফিক আইন আসার পরে এমনই লাগামছাড়া ভাবে বেড়ে গিয়েছে জরিমানার বহর। তাই দেখেই টুইট করেছেন শিল্পপতি কিরণ মজুমদার শ। মজা করে লিখেছেন, ট্র্যাফিক জরিমানা মেটানোর জন্য এবার থেকে ব্যক্তিগত লোন দেবে ব্যাঙ্কগুলি! ইএমআই-এও মেটানো যাবে!
দেখুন টুইট।
https://twitter.com/kiranshaw/status/1169430233562284032
শুধু কিরণ মজুমদার শ-ই নন। গোটা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েই চলছে নানা রকম ট্রোলিং, জোক, মিম। এক জন অটোচালককে যদি এত হাজার টাকার জরিমানা মেটাতে হয়, তা হলে তো তাঁকে সব কিছু বিক্রি করে দিতে হবে! কেউ বলেছেন, অটোর দামের থেকেও তো অটোচালকের জরিমানার পরিমাণ বেশি হয়ে গেল!
শুধু তা-ই নয়। আজই নিজের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিরাট কোহলি। খালি গায়ে মাটিতে বসে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। সঙ্গে একটি রাশভারী ক্যাপশনও দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, "যখন আমরা নিজেদের ভিতরটাকে খুঁজি, আমাদের বাইরে কিছু দেখতে হয়না।" কিন্তু মানুষ যেন ট্র্যাফিক-আতঙ্কে ভুগছে। তাই বিরাট কোহলির এমন দার্শনিক ক্যাপশন দেওয়া ছবিটিকেও ট্রোল করতে ছাড়েননি নেটিজেনরা। তাঁরা এই ছবি দেখে বলেছেন, "ট্র্যাফিক ফাইন দিতে গিয়েই বুঝি এমন ঘটিহারা অবস্থা হয়েছে বিরাটের!"
পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ট্র্যাফিক-আইন চালু হয়েছে ৷ সেই আইন না মানার অভিযোগে ভুবনেশ্বরের অটোচালক হরিবাবু কাঁহারের পথ আটরায় পুলিশ। এমনটা আগেও ঘটেছে হরিবাবুর সঙ্গে, তাই অভ্যেস মতো কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চালান হাতে পেয়েই কপালে উঠল চোখ! এ কী, ঠিক দেখছেন তো তিনি! সাড়ে ৪৭ হাজার টাকা দিতে হবে তাঁকে!
পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অটোয় মদ্যপ ব্যক্তিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি৷ নিজেও মদ খেয়ে ছিলেন। তাঁর কাগজপত্রেও নানা খামতি ছিল। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের জরিমানা করা হয়েছে তাঁকে, আর সে সবটাই আইন মেনে।
যেমন মদ্যপ অবস্থায় আরোহীকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১০,০০০ টাকা, উপযুক্ত লাইসেন্স না থাকার জন্য ৫,০০০ টাকা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য ৫,০০০ টাকা, শব্দ ও বায়ুদূষণের জন্য ১০,০০০ টাকা, গাড়ি নথিভুক্ত না থাকার জন্য ১০,০০০ টাকা, রোড পারমিট না থাকার জন্য ২,০০০ টাকা, সাধারণ অপরাধের জন্য ৫,০০০ টাকা এবং আরও কোনও একটি কারণে ৫০০ টাকা৷ সব মিলিয়ে ৪৭,৫০০ টাকা জরিমানা হিসাবে অটোচালককে জমা দিতে বলা হয়েছে ৷ তবে জানা গিয়েছে ওই অটোচালক জরিমানার টাকা জমা দিতে পারবেন না৷
না-পারাই স্বাভাবিক। সারা মাসের আয়ের থেকেও কয়েক গুণ বেশি যদি জরিমানা দিতে হয়, তবে তা মোটেই সম্ভব নয়। আর এখানেই প্রশ্ন তুলেছে নেট-দুনিয়া। তা হলে কি জরিমানা দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক আলাদা করে লোন দেওয়া শুরু করবে? নাকি গাড়িই বেচে দেবেন চালকেরা!
আরও পড়ুন: আরও কড়া ট্র্যাফিক আইন, পুলিশ ভাঙলে ডবল ফাইন! দিল্লির কথা শুনে কী বললেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার?
যেমন বেঙ্গালুরুর এক বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত বাইকচালক আকাশ। মঙ্গলবার রাতে কনকপুরায় তাঁকে হেলমেটহীন অবস্থায় ধরেন কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশ। তাঁর প্রশ্বাস পরীক্ষা করে, ১০০ মিলিলিটার রক্তে ১৭৩ মিলিগ্রাম মদের উপস্থিতি ধরা পরে। আইন মোতাবেক, সর্বাধিক ৩০ মিলিগ্রাম থাকার কথা গাড়ি চালানোর সময়ে। ফলে মদ্য়যপ অবস্থায় বাইক চালানোর অভিযোগে আকাশের বাইকটি আটক করে পুলিশ।
সেই বাইক মুক্ত করার জন্য ১৭ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয় তাঁকে। মদ্যপ থাকায় জরিমানা হয় ১০ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা জরিমানা হয় লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালানোর কারণে, ১ হাজার টাকা জরিমানা হয় হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর জন্য, এবং অন্য বেশ কিছু কারণে আরও ১ হাজার টাকা জরিমানা হয় তাঁর। ফলে সব মিলিয়ে মোট ১৭ হাজার টাকা দিতে হয় তাঁকে।
https://twitter.com/ANI/status/1168861906997673984?
সোমবার গুরুগ্রামে ট্র্যাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে ২৩ হাজার জরিমানা দিতে হয়েছিল দিল্লির গীতা কলোনির বাসিন্দা দীনেশ মদনকেও। হরিয়ানা ট্র্যাফিক পুলিশ জানিয়েছে, হেলমেট ছাড়া স্কুটার চালানোর পাশাপাশি লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, বিমার কাগজ এবং দূষণ সার্টিফিকেট না দেখাতে পারার কারণে মোট ২৩ হাজার জরিমানা ধার্য হয়েছে।
দীনেশ জানান, তিনি বাড়ি থেকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে পারতেন। তবে ওই পুলিশকর্মী অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না। দীনেশের কথায়, "স্কুটারের দামই ১৫ হাজার টাকা। সেখানে জরিমানা হয়ে গেল ২৩ হাজার টাকার!"
আরও পডুন...
https://www.four.suk.1wp.in/list-of-revised-traffic-violation-fines/