
শেষ আপডেট: 26 June 2019 11:05
অভিযুক্ত জেসন এবং ক্যাথরিন।[/caption]
ময়না-তদন্ত বলছে, দেওয়ালে বা মেঝেতে-- ভোঁতা কোনও জায়গায় আছড়ে ফেলা হয়েছিল ছোট্ট জেসমিনকে। তার মাথায় তীব্র আঘাত লেগেছিল, ফেটে গেছিল খুলি। সেই সঙ্গে পাঁজরের ৭১টা হাড় ভেঙেছিল তার। ভেঙেছিল শরীরের অন্য আরও ২৩টি হাড়। তবে এক বার না, বেশ কয়েক বার আছাড় দেওয়া হয়েছে ওই শিশুকে।
গোয়েন্দাদের তদন্তে জানা গিয়েছে, জেসমিনের একটানা কান্নায় খুবই বিরক্ত ছিল জেসন এবং ক্যাথরিন। তাই রাগের মাথায় প্রায়ই মারধর করে চুপ করানোর চেষ্টা করত। এক দিন সহ্যের সীমা ছাড়ানোয়, মেয়েকে আছাড় মেরে বসে তারা! মারা যায় শিশুটি। চিকিৎসকদের কাছে বাচ্চাকে নিয়ে গিয়ে তারা দাবি করে, দুর্ঘটনা ঘটেছে বাচ্চার সঙ্গে। যদিও সে কথা বিশ্বাস করেননি চিকিৎসকও। কোনও দুর্ঘটনায় এমনটা ঘটতে পারে না বলেই মনে হয় তাঁর। ফলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়।
পুলিশ তদন্ত শুরু করার পরে শরণাপন্ন হয় গোয়েন্দা বাহিনীর। বাচ্চাটির দেহ পাঠানো হয় ময়না-তদন্তে। ময়না-তদন্ত করতে অনেক মাস সময় লাগে। কারণ অত ছোট শরীরে অত হাড় ভাঙা ছিল, তা কাটাছেঁড়া করতে অনেক বেশি সময় লাগে। তার পরেই নিশ্চিত হওয়া যায়, ঠিক কী ভাবে আঘাত লেগে শরীরের হাড়গুলো ভেঙেছে তার।
জেরার মুখে জেসন জানিয়েছে, সে খুবই রাগী। অনেক চেষ্টা করত নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার। এ জন্য নানা বই-ও পড়ত সে। কিন্তু তার পরেও তার মনে হয়েছিল, ছোট্ট জেসমিন মারার জন্য খুবই ভাল! আবার ক্যাথরিন সব দোষ চাপিয়েছে হাসপাতালের উপরে। জানিয়েছে, সেখানেই তার মেয়ের মাথায় চোট লেগেছিল। বুকের হাড়ও ভেঙেছিল কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর সময়ে।
যদিও তাদের এই যুক্তি মোটেই গৃহীত হয়নি পুলিশ তথা আদালতের কাছে। তাই অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পরে, যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা হয়েছে জেসন ও ক্যাথরিনের। মঙ্গলবার টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি জেলে পাঠানো হয় তাদের। জানা গিয়েছে, তাদের হয়ে মামলা লড়ার জন্য এখনও কোনও আইনজীবী রাজি হয়নি।