দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়ে মানবজীবনের অসামান্য সব মুহূর্ত। লেন্সবন্দি হয় আপনার-আমার রোজের জীবনের নানান গল্প, একটু অন্য আঙ্গিকে। ফোর্বস এশিয়া ম্যাগাজিনে '30 under 30' তালিকায় নামও রয়েছে তাঁরা। আজ তিনি সফল। তিনি ভিকি রায়।
৩ বছর বয়সেই হারিয়েছিলেন বাবা-মাকে। প্রচণ্ড মারধর করতেন ঠাকুর্দা। সইতে না পেরে মাত্র ১১ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি। গ্রামের বাকিদের মতো দিলওয়ালে কে শহর দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন জীবনকে একদম অন্য ভাবে গড়বেন। শিশু মনের স্বপ্ন অবশ্য আন্দাজ করতে পারেনি বাস্তব কতটা রুঢ়। এখন আর্থিক সাফল্য থেকে সম্মান, সবই পেয়েছেন ভিকি। তবে জীবনের জার্নিটা এত মসৃণ ছিল না মোটেও। বরং ছোটোবেলাটা কেটেছে নিদারুণ কষ্টে। কিশোর বয়সেই পেটের ভাত জোগাড়ের জন্য চিন্তা করতে হয়েছে। রাত কাটাতে হয়েছে ফুটপাথে। তাঁর বয়সী আর পাঁচজন যখন পড়াশোনা করতে স্কুলে গিয়েছে, সে সময় ধাবায় বাসন ধোয়ার কাজ করেছেন ভিকি। লোকের ফেলে দেওয়ার খাবার খেয়েছেন। তার ফলে মাঝে মাঝেই পেটের ইনফেকশন লেগেই থাকত। একবার এক ডাক্তারবাবুকে দেখাতে গিয়েই কপাল ফিরে যায় ভিকির। তিনিই ছোট্ট ভিকিকে নিয়ে যান 'সালাম বালক' নামে একটি এনজিও-তে। তিনবেলা খাবার আর স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থাটা করে দেন ওই এনজিও-র সদস্যরা।
https://www.facebook.com/humansofbombay/photos/a.253147214894263/1164147697127539/?type=3
সেই সময় দিল্লি আসেন এক ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার। ওই ফটোগ্রাফারের কাজই মুগ্ধ করেছিল কিশোর ভিকিকে। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলেন জীবনে যা সয়েছেন, আগামী জীবনে যা দেখবেন, সব মুহুর্তকে বন্দি করতে লেন্সে। ভিকির কথায়, "ওই ফটোগ্রাফার আমায় মুগ্ধ করেছিলেন। ওর সঙ্গে থেকে অনেক কিছু শিখেছি। জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে। বুঝতে শিখেছিলাম এ জগতে সবই খারাপ নয়। অন্ধকারের পড়ে আলোও আছে। বৃষ্টির পরেও রোদ ওঠে।" ১৮-তে পা দেওয়ার পর ওই এনজিও থেকে একটি ক্যামেরা কিনে দেওয়া হয় ভিকিকে। ৪৯৯ টাকার ওই ক্যামেরা হাতে পাওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
ওই ব্রিটিশ ফটোগ্রাফারের সাহায্যেই ‘স্ট্রিট ড্রিমস' নামের একটি চিত্র প্রদর্শনী করেন ভিকি। ব্যাপক প্রশংসা পায় ভিকির সব ছবি। লোকজন কিনতে শুরু করেন তাঁর ছবি। দেশ-বিদেশ থেকে প্রদর্শনীর জন্য ডাক পেতে শুরু করেন ভিকি। আস্তে আস্তে এগোতে থাকেন স্বপ্নের দিকে। তাঁর কথায়, "প্রথমে সবটা বিশ্বাস হতো না। কেমন যেন ঘোর লেগে থাকত। ধীরে ধীরে ব্যাপারটায় ধাতস্ত হয়েছি। বুঝেছি যে হাজার বাধার পরেও আমি সফল হতে পারেছি।"
আশেপাশের ভালো মানুষগুলোর সাহায্যে আর নিজের মনের জোড়ে ভাগ্যকে বদলেছেন ভিকি রায়। এমআইটি মিডিয়া ফেলোশিপ পেয়েছেন ২০১৪ সালে। ২০১৬ সালে ‘ফোর্বস এশিয়া ৩০ আন্ডার ৩০' তালিকায় নাম আসে তাঁর। সম্প্রতি 'হিউম্যানস অফ বম্বে' নামক ফেসবুক পেজে নিজের জীবনের কাহিনী শেয়ার করেছেন ভিকি। তাঁর অদম্য উৎসাহের জন্য পেয়েছেন প্রশংসা। কুর্নিশ জানিয়েছে নেট দুনিয়া।