দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মেয়াদ কি বাড়বে ভারতে? বাড়লেও আরও কতদিন? বন্দিদশায় তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমানসে। এরমধ্যেই কে চন্দ্র শেখর রাও, শিবরাজ সিং চৌহান, অশোক গেহলটদের মতো একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞরা কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছেন, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হোক। সূত্রের খবর, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজারের দোড়গোড়ায় কড়া নাড়ছে। মৃত্যু হয়েছে ১২৪ জনের। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণের শৃঙ্খল বিচ্ছিন্ন রাখতে লকডাউনকেই এক এবং একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, হঠাৎ করে ১৫ তারিখ লকডাউন তুলে নিলে এই একুশ দিনে যতটুকু সাফল্য পাওয়া গেছে সেটাও জলাঞ্জলি যাবে।
যদিও লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও কোনও আমলা বা মন্ত্রী বিবৃতি দেননি। বরং মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রুটিন সাংবাদিক বৈঠকে যুগ্ম স্বাস্থ্যসচিব লব আগারওয়ালকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের কোনও স্তরে কোনও আলোচনা হয়নি। দয়া করে অনুমানের ভিত্তিতে কেউ কিছু বলবেন না।"
সোমবার তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে সি চন্দ্রশেখর রাওয়ের সচিবালয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছিল লকডাউন আরও অন্তত দু'সপ্তাহ বাড়িয়ে দেওয়ার। বস্টনের গবেষকদের পরামর্শ মানার কথা বলেছিলেন কেসিআর। তাৎপর্যপূর্ণ হল এই যে, শুধু দক্ষিণের রাজ্য থেকেই এই দাবি উঠল এমনটা নয়। মধ্যপ্রদেশে মসনদের সদ্য দায়িত্ব পাওয়া বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, রাজস্থানের কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছেন লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে।
৬ এপ্রিল বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় মোদী বলেছিলেন, করোনার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধটা অনেক লম্বা। এখানে ক্লান্ত হলে চলবে না। বিশ্রাম নেওয়ারও কোনও অবকাশ নেই। আমাদের এই যুদ্ধ জিততেই হবে।
মঙ্গলবার সকলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। তিনি বলেছিলেন, "যদি ১৪ এপ্রিলের পরও এই পরিস্থিতি চলে তাহলে আমাদের সবাইকে কষ্ট করে আরও ক’টা দিন কাটিয়ে দিতে হবে।”