দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্যান্য বছরের মতোই ২৪ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু সম্প্রতি দেশজুড়ে চলা সিএএ-বিক্ষোভের জেরে যাদবপুরের পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের হাত থেকে ডিগ্রির শংসাপত্র নেবেন না তাঁরা। এই বয়কটের জেরে গোলমালের আশঙ্কা হতে পারে বুঝে সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করেছেন কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই বেজায় চটেছেন রাজ্যপাল।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বদল করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। এর পরেই আজ, রবিবার সন্ধেয় তিনি টুইট করে জানান, নির্ধারিত সমাবর্তনের আগের দিন, ২৩ ডিসেম্বর, সোমবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম কোর্ট মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
রাজ্যপাল টুইট করে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর কমিটি রুমে দুপুর দুটোই ওই মিটিং হবে। যাদবপুরের পড়ুয়ারা আসন্ন সমাবর্তনে রাজ্যপালকে গণবয়কটের ডাক দেওয়ার পরেই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের মিটিং বসেছিল। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, রাজ্যপালকে ছাড়াই হবে সমাবর্তন। ডিগ্রি দেওয়া হবে কেবল ছাত্রদের। বিশেষ অনুষ্ঠান স্থগিত হবে। সোমবার কোর্টের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকেই সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল।
সমাবর্তন স্থগিত হওয়ার খবর শুনেই রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য শুধু পদেই রয়েছেন, কাজে নন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার রাজনীতিকরণ হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, তিনিই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বাঁচাবেন। রাজ্যপাল এ-ও মনে করিয়ে দেন, তিনি তাঁর ক্ষমতার সম্পূর্ণ প্রয়োগ করতে চান না।
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1208734509987815425?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1208734509987815425&ref_url=https%3A%2F%2Fbengali.oneindia.com%2Fnews%2Fkolkata%2Fgovernor-jagdeep-dhankhar-says-as-chancellor-he-would-be-presiding-the-court-meedting-of-ju-069429.html
শুধু টুইট নয়, এদিন একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "যাদবপুরের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, আমায় আমন্ত্রণ জানাবে না সমাবর্তনে। সেই অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আমি আমার অধিকার তথা পদের ক্ষমতা প্রয়োগ করব। আমি যাঁকেই এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করছি, কেউ কিছু জানেন না। সকলেই ভয়ে আছে। আমি যাদবপুরে গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে উদ্ধার করতে। এটা বেআইনি নয়। তবে আমি চাই না আমার পদের ক্ষমতার সম্পূর্ণ প্রয়োগ করতে।"
তবে শুধু যাদবপুর নয়। আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, "প্রশাসনের কারণে গত মাসেও তাঁর অনেকগুলি অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেছে। তিনি বারবার অপমানিত বোধ করেছেন।"
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, প্রতি বছর যাদবপুরের তরফে বিশেষ সমাবর্তনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ডি লিট ও ডি এসসি সম্মান দেওয়া হয়। সাম্মানিক ডি লিট ও ডি এসসি দেওয়ার জন্য এবার চার জনের নাম ঠিক হয়েছিল। ডি লিট দেওয়ার জন্য নাম ঠিক হয়েছিল বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ এবং প্রাক্তন বিদেশ সচিব সলমন হায়দারের। সাম্মানিক ডি এসসি দেওয়ার কথা ছিল ভারতরত্ন প্রাপ্ত সিএনআর রাও এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করে দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, সাধারণ যে সমাবর্তন তা পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই হবে। ওই অনুষ্ঠানে নিয়মানুযায়ী রাজ্যপাল বা আচার্যের উপস্থিতি না হলেও চলে।
গত তিনদিন ধরে ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের হোয়াটস্যাপে একটি বার্তা পাঠানো শুরু হয়। তাতে লেখা হয়, “আগামী ২৪শে ডিসেম্বর, ২০১৯ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা আমাদের ‘অভিভাবক'(!) আচার্য ও রাজ্যপাল জগদীশ ধনকড়ের। তার বিভিন্ন কার্যক্রমে গত কয়েক মাসে এটা স্পষ্ট যে, তিনি বিজেপি ও আরএসএসের দালালি করে ফ্যাসিবাদের একনিষ্ঠ প্রচারকের ভূমিকাই পালন করে আসছেন লাগাতার।” সেই বার্তায় আরও বলা হয়, “সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমাদের আহ্বান যে, একসাথে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাঙ্গাবাজির সমর্থক এই জগদীপ ধনকড়কে বয়কট করি। কালো পতাকা ও কালো ব্যাজ পরে আমরা আওয়াজ তুলব সিএএ, এনসিআর ও এনপিআর-এর বিরুদ্ধে।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কপালে ভাঁজ পড়ে যায়। কারণ কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই জল অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছিল। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বললেও ছাত্রদের সেই বিক্ষোভ কোথায় পৌঁছতে পারে তা ভাল মতোই জানেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসুরা। মনে করা হচ্ছে, সেই আশঙ্কা থেকেই বিশেষ সমাবর্তন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তবে এরপরেও ছাত্ররা বিক্ষোভের প্রস্তুতিতে ফাঁক রাখতে চাইছে না। এক ছাত্রনেতার কথায়, গত কয়েক মাসে রাজ্যপালকে দেখা গিয়েছে হঠাৎ হঠাৎ যেখানে সেখানে পৌঁছে যেতে। অনেকের ধারণা সাধারণ সমাবর্তনেও হঠাৎ হাজির হয়ে পড়তে পারেন জগদীপ ধনকড়। তাই কালো পতাকা, ব্যাজ-সহ পোস্টার, প্ল্যাকার্ড তৈরিই থাকবে। রাজ্যপাল এলেই যাতে বিক্ষোভ শুরু করা যায়।
এখন আগামী কালের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সভাপতি হিসেবে ধনকড় কী প্রস্তাব রাখেন, সে দিকেই চোখ সকলের।