দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার ভয় থাকলেও ভারত সফর বাতিল করবেন না বলেই মনস্থ করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রধান অতিথি হয়ে আসবেন, এই ইচ্ছাই ছিল তাঁর। কিন্তু করোনার নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শেষে বরিসের ভারত সফর বাতিল করা হয়। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শুধু নন প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির আসনে দেখা যাবে না কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকেই।
সশরীরে হাজির হতে না পারলেও ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। বরিস বলেছেন, “ভারত বৃহত্তম সার্বভৌম গণতন্ত্রের দেশ। আমার খুবই ইচ্ছা ছিল বন্ধু নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে প্রধান অতিথি হয়ে যাওয়ার। কিন্তু দেশে করোনা লড়াইয়ে এখন আমাকে থাকতে হবে। আফসোস, তাই পারলাম না।”
১৯৯৩ সালে ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর। এর প্রায় তিন দশক পরে ফের কোনও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হয়ে আসতে চলেছিলেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বরিসের এটাই প্রথম ভারত সফর হত। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেনে করোনার নতুন স্ট্রেন প্রথম ধরা পড়ার পর থেকে বরিসের ভারত সফর নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়েছিল। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছেন, নতুন স্ট্রেন ৭০ শতাংশ বেশি ছোঁয়াচে। লন্ডনে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। যা ঠেকাতে ব্রিটেনে ফের সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণাও করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত বরিস জনসনের ভারত সফর বাতিল করা হয়।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতে এই মুহূর্তে না আসতে পারলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে দুই দেশই। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। করোনা মহামারীর মোকাবিলায় ভারত ও ব্রিটেন হাত মিলিয়েই কাজ করছে। বরিস বলেছেন, করোনার ভ্যাকসিন তৈরি ও তার সরবরাহে দুই দেশের মধ্যে সেতু তৈরি হয়েছে। করোনার টিকা তৈরিতে ভারতের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ভারত গোটা বিশ্বের চাহিদার ৫০ শতাংশ টিকা ইতিমধ্যেই সরবরাহ করছে। ব্রিটেন এবং ভারত এই করোনা সঙ্কটে হাতে হাত মিলিয়ে কাজও করেছে।
জুন মাসে ব্রিটেনে হতে চলা জি সেভেন বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে ব্রিটেন। ১১ থেকে ১৩ জুন ব্রিটেনের কর্নওয়ালে জি সেভেন গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে থাকবে ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং আমেরিকা। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদেরও। সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মোদীকে।