ঘন কুয়াশায় ঢেকেছে দিল্লি, দেরিতে চলছে ৩০টি ট্রেন, ব্যাহত বিমান পরিষেবাও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাঁকিয়ে শীত সঙ্গে ঘন কুয়াশা। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পড়েছে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায়। ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ে গিয়ে রাজধানী শহর। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে দেরিতে চলছে ট্রেন এবং বিমান। রেলের তরফে খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০টি ট্রেন নির্ধার
শেষ আপডেট: 30 December 2019 03:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাঁকিয়ে শীত সঙ্গে ঘন কুয়াশা। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পড়েছে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায়। ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ে গিয়ে রাজধানী শহর। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে দেরিতে চলছে ট্রেন এবং বিমান। রেলের তরফে খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছে। উড়ান বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দেরিতে উড়েছে বেশ কিছু বিমান। রবিবার দিল্লির তাপমাত্রা ছিল ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সকালে রাজধানী শহরের পারদ নেমেছে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পরিসংখ্যান বলছে এখন দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সিমলার থেকেও ৩ ডিগ্রি কম।
কুয়াশার পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে ক্রমশ খারাপ হচ্ছে দিল্লির বাতাসের গুণমান। সোমবার সকালে আনন্দ বিহার এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৪৬২ এবং ওখলা ফেজ-২ এলাকায় ৪৯৪। অতএব দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ফের পৌঁছে গিয়েছে 'সিভিয়ার' ক্যাটেগরিতে। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার ফলে সোমবার সকাল থেকেই যাতায়াতে চরম অসুবিধের মধ্যে পড়েছেন দিল্লিবাসী। সাতসকালেই গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি এবং নয়ডাতেই কুয়াশার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। রবিবার থেকেই একলাফে পারদ পতন শুরু হয়েছে দিল্লি-সগ গোটা উত্তর ভারতে। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ গ্রেটার নয়ডার কাছে একটি খালে পড়ে যায় যাত্রী বোঝাই গাড়ি। ১১ জন যাত্রীর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই তীব্র ঠান্ডার পরিবেশই থাকবে সমগ্র উত্তর ভারতে। এদিকে সোমবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার জেরে কমেছে দৃশ্যমানতা। চারহাত দূরের জিনিস দেখতে গেলেও সমস্যা হচ্ছে আমজনতার। পারদ পতনের পাশাপাশি দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় বইছে কনকনে শীতল উত্তুরে হাওয়া। একই অবস্থা উত্তর ভারতের বাকি রাজ্যেও। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে কাঁপছে উত্তর ভারতের প্রায় সব জেলা। ইতিমধ্যেই দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। আগামী দু'দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলেই আশঙ্কা আবহবিদদের। বছরের শুরুতেই শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে আইএমডি।
তবে কেবল দিল্লি নয়, হরিয়ানা, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, দ্রাস সর্বত্রই অবস্থা একই। উপত্যকায় হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমেছে পারদ। জমে গিয়েছে ডাল লেক। লাদাখ এবং দ্রাসে পারদ পৌঁছেছিল মাইনাস ১৬ এবং মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ইতিমধ্যেই মরশুমের শীতলতম দিন চাক্ষুষ করেছেন শ্রীনগরবাসী। প্রবল তুষারপাতও হয়েছে উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে। প্রবল শীতে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হরিয়ানা। গত ১৪ ডিসেম্বর থেকেই জাঁকিয়ে শীত পড়েছে রাজধানী শহর দিল্লিতে। সংলগ্ন এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্যেও চলেছে শৈত্যপ্রবাহ।