দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই বিধানসভা কেন্দ্রের এক্সিট পোল নিয়ে বিধি নিষেধ আরোপ করল নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদের কান্দি ও নওদা বিধানসভার উপনির্বাচন যেহেতু ২০ তারিখ তাই সেখানকার বুথ ফেরৎ সমীক্ষার ফল ১৯ মে সপ্তম দফার ভোট গ্রহণ শেষ হলেই করা যাবে না। ২০ মে ভোট পর্ব মেটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আজ এই নির্দেশ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে চিঠি পাঠানো হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনকে।
নির্ধারিত সময়ের ২০ ঘণ্টা আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার। তবে যেসব বিধানসভা এলাকায় উপনির্বাচন রয়েছে তার প্রচার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই চলবে। এমনটা আগেই জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এবার জানিয়ে দিল যেসব এলাকায় ১৯ মে উপনির্বাচন হচ্ছে না সেখানে ভোট পর্ব না মেটার আগে কোনও রকম সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করা যাবে না।
ইসলামপুর, দার্জিলিং, হবিবপুর ও ভাটপাড়ায় সপ্তম দফার ভোটের দিনেই হবে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ। কিন্তু মুর্শিদাবাদের কান্দি ও নওদায় ভোট রয়েছে সোমবার। এদিন কমিশনের চিঠিতে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, ওই দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনও সংবাদমাধ্যমের বা অন্য কোনও সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্ট যেন প্রকাশিত না হয়।
নির্বাচম কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে ভোটগ্রহণের প্রথম দিন থেকে শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে যায়। তাই আলাদা করে কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু শেষ দফার ভোট এগিয়ে আসতেই নানা রকম ভোট পরবর্তী সমীক্ষার ফলাফল সামনে আসতে শুরু করেছে। ১৯ মে সপ্তম দফার ভোট শেষের আগে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা থাকালেও ইতিমধ্যেই কিছু রিপোর্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে আসে। এর পরেই ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ইতিমধ্যেই একটি পোস্টকে ঘিরে বিতর্কের জেরে টুইটারকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই পোস্ট-সহ ভোট পরবর্তী সমীক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত পোস্ট সরিয়ে দেওয়ার দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ চলার সময়ে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মুদ্রণ বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে কোনও ধরনের এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশ করতে পারে না। রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট গ্রহণের শুরুর দিন থেকে শেষ দিন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আধঘণ্টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে।নিয়ম ভাঙলে দু’বছর পর্যন্ত জেল অথবা জরিমানা এবং দুই-ই সাজা হতে পারে।