দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি ১৫ মিনিটে এ দেশে যৌন হেনস্থার শিকার হয় একটি শিশু। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। 'ক্রাই'-এর করা ওই সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, গত দশ বছরে শিশু এবং নাবালিকাদের উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫০০ শতাংশ।
সমীক্ষার তথ্যের সাম্প্রতিকতম নমুনা ছিল কাঠুয়া। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে টানা সাতদিন গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল আট বছরের ছোট্ট আসিফা। গোটা দেশ গর্জে উঠেছিল এই ঘটনার প্রতিবাদে। ধরাও পড়েছে দোষীরা। কিন্তু দেশের অবস্থা একচুলও পাল্টায়নি। বদলায়নি সমাজও। আর শিশুদের প্রতি নির্যাতন চলতেই থেকেছে। তবুও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন নেই। বরং কাঠুয়াকাণ্ডের ঠিক সাতমাসের মাথায় ফের ধর্ষণের শিকার দিল্লির এক শিশু।
দিল্লির এক সরকারি স্কুলে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ওই বাচ্চাটি। অভিযোগ উঠেছে স্কুলে কর্মরত এক ইলেকট্রিশিয়ান বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফিরছিল বছর ছয়েকের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়া। সেই সময় তাকে স্কুলের পাম্প ঘরে টেনে নিয়ে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি। অভিযোগ, এরপর সেখানেই শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই ইলেকট্রিশিয়ান।
জানা গিয়েছে, ওই বাচ্চাটির পরিবার স্কুলের কাছেই একটি বস্তিতে থাকে। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে বাচ্চাটির মা প্রথম দেখতে পান যে তাঁর মেয়ের গোপনাঙ্গ থেকে রক্ত বেরচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বাচ্চাটিকে। সেখানেই চিকিৎসকরা জানান, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ওই শিশু। অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হবে। জানা গিয়েছে, গত একমাস ধরে ওই স্কুলে কাজ করছিল এই ইলেকট্রিশিয়ান। পুলিশ জানিয়েছে, আদতে বছর ৩৭-এর ওই ব্যক্তি দিল্লি পুরসভার স্থায়ী কর্মী।
তবে স্কুলের মধ্যে শিশুদের যৌন হেনস্থার ঘটনা এই প্রথম নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহুবার ঘটেছে শিউরে ওঠার মতো এ হেন ঘটনা। তালিকা থেকে বাদ পড়েনি কলকাতাও। শহরের দুই নামিদামি স্কুল জি ডি বিড়লা এবং কারমেল কনভেন্টের বিরুদ্ধে উঠেছিল অভিযোগ। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় পাস হয়েছে একটি বিল। সেখানে বলা হয়েছে, ১২ বছরের নীচে কাউকে ধর্ষণ করলে ধর্ষকদের সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু তারপরেও বদলাচ্ছে না সমাজ।
তবে দিল্লির এই ঘটনায় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার।