দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিহারের পর মধ্যপ্রদেশ। কিছুদিন আগে জানা যায়, বিহারে কোভিডে যতজন মারা গিয়েছেন বলে সরকার দাবি করেছিল, বাস্তবে মৃত্যু হয়েছে তার কয়েকগুণ বেশি মানুষের। এবার শোনা গেল, মৃত্যুর সংখ্যা কম করে দেখানো হয়েছে মধ্যপ্রদেশেও। সেখানকার সরকার কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভে যতজনের মৃত্যুর হিসাব দিয়েছে, বাস্তবে মারা গিয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ।
সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ ও '১৯ সালে, অর্থাৎ কোভিড অতিমহামারী শুরুর আগের দুই বছরে মধ্যপ্রদেশে এপ্রিল-মে মাসে মারা গিয়েছিলেন ৫৯ হাজার মানুষ। কিন্তু ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের। ওই সময় কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ ছিল সবচেয়ে তীব্র। অর্থাৎ চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে কোভিড পূর্ব সময়ের চেয়ে ২৯০ শতাংশ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত মে মাসে মারা গিয়েছেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ। মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল ও মে মাসে রাজ্যে কোভিডে মারা গিয়েছেন ৪১০০ জন। অনেকেই মনে করছেন, বাস্তবে যতজন মারা গিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক কম করে দেখিয়েছে রাজ্য সরকার। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ভোপালে বিভিন্ন শ্মশান ও সমাধিক্ষেত্র থেকে পাওয়া হিসাবে জানা যায়, কোভিডে মারা গিয়েছেন ৩৮১১ জন। কিন্তু সরকারি হিসাবে বলা হয়েছিল, এপ্রিলে ভোপাল জেলায় কোভিডে মৃতের সংখ্যা ১০৪।
এর আগে কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হওয়ার পরে এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে বিহারে করোনায় ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছিল তার সঠিক হিসেব বের করার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল পাটনা হাইকোর্ট। সেই সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ১৬০০ জনের মৃত্যুর যে রিপোর্ট দেখানো হয়েছিল বাস্তবে মারা গিয়েছেন তার থেকে কয়েক গুণ বেশি মানুষ। বস্তুত, এপ্রিল থেকে এ বছর জুন মাসের ৭ তারিখ অবধি কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ৭৭৭৫ জনের। মনে করা হচ্ছে, বিহারের কয়েকটি জেলায় মৃত্যুহার সর্বাধিক। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু পাটনায়।
এমনিতে সারা দেশে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ এখন স্তিমিত। শনিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৪ হাজার ৩৩২ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। বিগত ৭০ দিনের মধ্যে যা সর্বনিম্ন।
পাশাপাশি হ্রাস পেয়েছে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যাও। আপাতত দেশে অ্যাকটিভ কেস ১১ লাখ থেকে কমে হয়েছে ১০ লক্ষ ৮০ হাজার ৬৯০। যা মোট সংক্রামিতের ৩.৬৮ শতাংশ। একইসঙ্গে কমেছে পজিটিভিটি রেটও (৪.৩৯%)। আপাতত এই হার টানা পাঁচদিন পাঁচ শতাংশের নীচে রয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দৈনিক সুস্থতার হার (৯৫.০৭%)। যদিও এতকিছুর মধ্যে দুশ্চিন্তা ঘনিয়েছে মৃত্যুর পরিসংখ্যানকে ঘিরে। গত একদিনে সারা দেশে কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ২ জন৷