দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্থিক তছরুপের দায়ে গ্রেফতার ইয়েস ব্যাঙ্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুর। দীর্ঘ জেরার পর রানা কাপুরকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবারই তাঁকে নিয়ে আসা হয় ইডির অফিসে। মুম্বইয়ে বেলার্ড এস্টেটের ইডি-র দফতরে টানা ২০ ঘণ্টা চলে জেরা। তারপর গ্রেফতার করা হয়েছে রানা কাপুরকে। শনিবার সকালেই রানা কাপুরের মুম্বইয়ের বাড়ি সমুদ্র মহল রেসিডেন্সিয়াল টাওয়ারে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিলেন ইডি-র তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ইতিমধ্যেই রানার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে ইডি সূত্রে খবর, তদন্তে অসহযোগিতা এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগেই ইয়েস ব্যাঙ্কের এই প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রানা কাপুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এমন বেশ কিছু সংস্থাকে লোনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন যেগুলো ঋণের ভারে জর্জরিত। ঋণ শোধ না হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেবল রানার অঙ্গুলি হেলনেই ওই সংস্থাগুলিকে লোন পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
রানা কাপুরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সঙ্গে যোগ রয়েছে দেওয়ান হাউসিং ফিনান্স কর্পোরেশন কেলেঙ্কারি। জানা গিয়েছে, দেওয়ান হাউজিং ফিনান্স লিমিটেড (ডিএইচএফএল)-এর মালিক ধীরজ ওয়াধাবনের সংস্থা আর কে ডব্লিউ ডেভেলপার্সকে বিপুল টাকার ঋণ পাইয়ে দিয়েছিল ইয়েস ব্যাঙ্ক। অভিযোগ, এই ঋণ শোধ হয়নি।
ইয়েস ব্যাঙ্ক সঙ্কটের কথা প্রকাশ্যে আসার পর এই ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।গ্রাহকদের টাকা তোলা ও ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে শর্ত আরোপ করা হয়। টাকা তুলতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়েন ইয়েস ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা। শনিবার গভীর রাতের টুইটে ইয়েস ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, এবার তাদের গ্রাহকরা এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন। টুইটে জানানো হয়, ‘‘এবার আপনারা আপনাদের ইয়েস ব্যাঙ্কে ইয়েস ব্যাঙ্ক ডেবিট কার্ড বা অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারবেন। আপনাদের ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ।'' ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিটি গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা তুলতে পারবেন বলে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আরবিআই।