দ্য ওয়াল ব্যুরো: যারা দ্রুত, সফলভাবে কোভিডের সংক্রমণ ঠেকিয়েছে, তারা বেশি মার্কস পেয়েছে। এগিয়ে এসেছে তালিকাতেও। অন্যদিকে করোনা-লকডাউন নিয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছে যারা, তাদের র্যাঙ্কিং পিছিয়েছে। সম্প্রতি বিখ্যাত ম্যাগাজিন 'দ্য ইকোনমিস্ট'-এর বানানো বিশ্বের সর্বাধিক বসবাসযোগ্য শহরের লিস্টিতে এমনই ট্রেন্ড লক্ষ করা গেল।
প্রতি বছরই লন্ডনের জনপ্রিয় পত্রিকাটি এই তালিকা তৈরি করে থাকে। মূল্যায়নের প্যারামিটারও ফি বছর বদলে যায়। অতিমহামারীর আবহে এবার করোনাকেই মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, এশিয়া ও ওশিয়ানিয়া মহাদেশ ইউরোপ-আমেরিকাকে পিছনে ফেলেছে।
দ্য ইকোনমিস্ট-এর র্যাঙ্কিং-এ প্রথম স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে জাপানের ওসাকা, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ও নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন জায়গা করে নিয়েছে।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ম্যাগাজিনের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বক্তব্য, 'অকল্যান্ড শীর্ষে উঠে এসেছে কোভিড নিয়ন্ত্রণের জন্য। যেভাবে চটজলদি ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে সেদেশের প্রশাসন এতদিন নাগরিক জীবন সচল রেখেছে, তাতে তাদের স্কোর অনেকটাই বেড়েছে।' ঠিক একই কাজ ইউরোপের দেশগুলি সফলভাবে করতে পারেনি। তাই তারা ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে বলে সাফ জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকেরা।
বুধবার প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, '২০১৮-২০— এই কয়েক বছর বসবাসযোগ্য শহরের তালিকার প্রথমে ছিল ভিয়েনা। কিন্তু তারাই এবার ১২ ধাপ নীচে নেমে এসেছে। যে ১০টি শহর সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়েছে, তাদের মধ্যে ৮টিই ইউরোপের কোনও না কোনও শহর।' এই পতনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানির হামবুর্গ। ৩৪ সিঁড়ি বেয়ে যারা ৪৭তম স্থানে নেমে এসেছে।
নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি, তাঁরা করোনা, লকডাউনের মতো বিষয়ে জোর দেওয়ায় নজর রেখেছিলেন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয়। সেখানে জার্মানি এবং ফ্রান্সের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর খারাপ ফল করেছে। 'হেলথকেয়ার স্কোর' কম থাকায় তারা লিস্টের নীচে জায়গা করেছে। পাশাপাশি ঠিকভাবে সংক্রমণ রুখতে না পারা সংশ্লিষ্ট শহরের নাগরিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও আঁচ ফেলেছে। যা এই অবনতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ।
যদিও তালিকায় যে নামটি সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে, তা হনলুলু। ৪৬ ধাপ ডিঙিয়ে ১৪তম স্থানে উঠে এসেছে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের এই জনবহুল শহর৷ দ্রুত সংক্রমণ কমানো এবং সফল গণটিকাকরণের জেরেই হাওয়াইয়ের এই উন্নতি। মত 'দ্য ইকোনমিস্ট'-এর।