দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আন্দোলনের যে ঢেউ উঠেছে তা এবার আছড়ে পড়ল কোকাকোলার উপরেও। স্পট হেট ফর প্রফিট (#StopHateForProfit) হ্যাশ ট্যাগে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। একের পর এক বহুজাতিক সংস্থা ব্র্যান্ডের নাম, বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু নিয়ে বিপাকে পড়ে সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে। এবার কোকাকোলা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল।
কেন? কী অভিযোগ কোকের বিরুদ্ধে?
এখনও নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তবে যে ভাবে আন্দোলন গতি পাচ্ছে তাতে কোকাকোলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিজ্ঞাপনে বর্ণবিদ্বেষের কোনও জায়গা নেই। তা থাকতেও পারে না। এই সময়ের মধ্যে তারা বিশ্লেষণ করবে, তাদের কোনও বিজ্ঞাপনী বিষয়বস্তু বর্ণবাদে ইন্ধন দিচ্ছে কিনা।
কোকাকোলার সিইও তথা চেয়ারম্যান জেমস কুইয়েন্সি বলেছেন, "এ ব্যাপারে কোকাকোলা স্বচ্ছ থাকতে চায়। যে কোনও ধরনের বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কোকাকোলা। আমাদের বিজ্ঞাপন পর্যালোচনা করার জন্যই আমরা ৩০ দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তা বন্ধ রাখব।"
সারা বিশ্বজুড়ে যে সংস্থাগুলির বিজ্ঞাপনের দাপট দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম কোকাকোলা। সেদিক থেকে কোকের এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।
ইতিমধ্যেই ইউনিলিভার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লিপটন টি এবং বেন অ্যান্ড জেরি আইসক্রিমেরে বিজ্ঞাপন ফেসবুক থেকে প্র্যাহার করে নেবে। শুক্রবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বড় অংশের বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হবে। অর্থাৎ বড় অংশের বিজ্ঞাপনের কোথাও না কোথাও কোনও না কোনও ভাবে যে প্রচ্ছন্ন হলেও বর্ণবাদের ছোঁয়া রয়েছে তা কার্যত মেনে নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি তার নামের থেকে ফেয়ার শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর মার্কিন মুলুকে শুরু হওয়া নাগরিক আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বজুড়ে। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজিটাল প্রতিবাদে একের পর এক সংস্থা হয় বিজ্ঞাপন তুলে নিচ্ছে অথবা পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বদল হচ্ছে ব্র্যান্ডের নামও। সেই তালিকায় এবার কোকাকোলাও।
ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর অগ্নিগর্ভ চেহারা নিয়েছিল আমেরিকা। একের পর এক শহরে গণবিক্ষোভ নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে। হোয়াইট হাউসমুখী মিছিলে আতঙ্কিত হয়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছিল ট্রাম্পকে। রূপ বদলে সেই আন্দোলন এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়।