দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে তাবলিগ-ই-জামাতে অংশ নেওয়াদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩০০ জনের শরীরে পাওয়া গিয়েছে সংক্রমণের নমুনা। তাঁদের মধ্যে ১৯০ জন রয়েছেন শুধু তামিলনাড়ুতেই। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশে রয়েছেন ৭০ জন, দিল্লিতে ২৪ জন, তেলেঙ্গানাতে ২১ জন, আন্দামানে ১০, অসমে ৫, পুদুচেরিতে ২ জন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ১ জন।
জানা গিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অসংখ্য মানুষ ছড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন রাজ্যে। বিদেশ থেকে আসা বহু নাগরিকও ঘুরে বেড়িয়েছেন একাধিক জায়গায়। ইতিমধ্যেই এই সংগঠনটির প্রধান মৌলানা সাদ এবং আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই সাতজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলাও রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ।
মৌলানা সাদ ছাড়াও, দিল্লি পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে নাম রয়েছে জিশান, মুফতি শেহজাদ, এম সফি, ইউনুস, মহম্মদ সলমন, এবং মহম্মদ আশরাফের। তাঁদের বিরুদ্ধে মহামারি সংক্রান্ত আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশ কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব। অন্যদিকে সূত্রের খবর, গত শনিবার থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন মৌলানা সাদ। শোনা যাচ্ছে দিল্লি পুলিশের করা এফআইআরে নাম থাকার বাকিরাও ফেরার রয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের এফআইআরে বলা হয়েছে যে ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাঁরা জমায়েতে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অনেককে একসঙ্গে একটা ঘরে থাকার অনুমতিও দিয়েছিলেন। ২৪ মার্চ লকডাউনের নোটিস দেওয়া হলেও তা মানেননি এই সাতজন।
জানা গিয়েছে, মার্চের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরঘিজস্তান থেকে প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। দু’হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছিল। ১৫ মার্চ অনুষ্ঠান শেষ হলেও থেকে যান অনেকেই। এই মসজিদে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে থেকে পরে ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই ১১ জন ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিলেন। তাঁদের পরীক্ষা হয় হায়দরাবাদে। এছাড়াও দিল্লির মসজিদের অনুষ্ঠানে যোগদানকারী ৬ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তেলেঙ্গানায়। তাঁরা প্রত্যেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর আগে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরে করোনা আক্রান্ত হয়ে তামিলনাড়ু ও জম্মু-কাশ্মীরে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের সকলকেই দিল্লির ওই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গোটা এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে। নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। মানুষের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও ওই মসজিদের ছ’তলা ডরমিটরিতে আনুমানিক দু’হাজার জন রয়েছেন বলে খবর। এদের মধ্যে আবার ২৮০ জন বিদেশি নাগরিক।