দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত পাঁচ বছরে একাধিক রাজনৈতিক উত্থানপতন দেখেছে দেশ। দিল্লির মসনদে যেমন দ্বিতীয়বার নরেন্দ্র মোদীর সরকার এসেছে তেমনই একাধিক রাজ্য থেকে ফিকে হয়েছে গেরুয়া রঙ। একইসঙ্গে সারা দেশ ২০১৪-২০১৯ এই পাঁচবছরে শুনেছে একাধিক আকর্ষণীয় স্লোগান। আসুন দেখে নেওয়া যাক গত পাঁচবছরে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি যে স্লোগান দিয়েছে তার মধ্যে সেরা সাতটি স্লোগান-
অব কি বার, মোদী সরকার
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রচার টিমের তৈরি করা স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছিল মুখে মুখে। ‘অব কি বার, মোদী সরকার’ স্লোগানের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। শুধু তাই নয়, রাজ্যে রাজ্যেও এই স্লোগান ব্যবহার করেছিল বিজেপি। সেদিক থেকে নির্বাচনী স্লোগানের দিক থেকে ‘অব কি বার, মোদী সরকার’ মাইলস্টোন হয়ে গিয়েছে।
আপ (UP) কো ইয়ে সাথ পসন্দ হ্যায়
২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির জোট হয়েছিল। বিজেপি ঠেকাতে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের দল গাঁটছড়া বেঁধে ভোটে লড়েছিল। সেই সময়ে উত্তরপ্রদেশের মানুষের কাছে এই স্লোগান দিয়েছিল কংগ্রেস-স্পা জোট।
অব কি বার, গাঁও কি সরকার
একদা ঝাড়খণ্ডে বিজেপির জোট শরিক আজসু বিধানসভা ভোটের আগেই বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে বেরিয়ে যায়। লোকসভা ভোটেও একসঙ্গে লড়েছিল আজসু। ব্যাপক সাফল্যও পেয়েছিল বিজেপি জোট। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে আজসু স্লোগান দেয়, ‘অব কি বার, গাঁও কি সরকার।’ বোঝাতে চেয়েছিল, ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে সরকার পৌঁছতেই পারেনি রঘুবর দাসের সরকার। এবার নতুন সরকার সেটাই করবে। আজসুর এই স্লোগানও আদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্যে ভাল সাড়া ফেলেছিল বলে মত অনেকের। বিজেপি এই রাজ্যে মসনদ খুইয়েছে সদ্য। যদিও আজসুও যে আহামরি ফল করেছে তা নয়। তবে তাদের স্লোগান জনমানসে সাড়া ফেলেছিল।
আচ্ছে বিতে পাঁচ সাল, লাগে রহো কেজরিওয়াল
আগামী বছরের শুরুতেই ভোট হবে দিল্লিতে। ২০১৪ থেকে সেখানে আম আদমি পার্টির সরকার। চোদ্দর ভোটে দিল্লির ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি জিতে নিয়েছিল আপ। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কঠিন। দ্বিতীয়বার মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাই প্রচারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। প্রচার কৌশলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাককে। আগামী ভোটের জন্য আপ স্লোগান দিয়েছে, ‘আচ্ছে বিতে পাঁচ সাল, লাগে রাহো কেজরিওয়াল।’
ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশ জোড়া যে আন্দোলন তৈরি হয়েছে তাতে সামনের সারিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএএ-কে বিদ্রুপ করতে পার্ক সার্কাসের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ।’ সোশ্যাল মিডিয়াতেও মুখ্যমন্ত্রীর সেই স্লোগানের ক্লিপিং ভাইরাল। ট্রোলও হচ্ছে দেদার। তবে ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ ব্যাপক ভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
দিদিকে বলো
লোকসভা ভোটে বাংলায় বড় ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল। তারপরই প্রশান্ত কিশোরকে পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করেন মমতা। অনেকের মতে, তাঁর পরামর্শেই দিদিকে বলো স্লোগান দিয়ে ময়দানে নামে তৃণমূল। এই কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিরা গাঁয়ে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনেন। তারপর যেগুলি সমাধান করা যাচ্ছে না সেগুলি দিদি অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠান। একটি ফোন নম্বরে ফোন করে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরেও জানানোর সুযোগ পান সাধারণ মানুষ। এই স্লোগানও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
বিকাশ কি চাবি, ডিম্পল ভাবি
লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে এই স্লোগানই দিয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশ যাদবের স্ত্রী ডিম্পলকে সামনে রেখে এই স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি ঝড়ের সামনে এই স্লোগান ভোট বাক্সে প্রভাব না ফেলতে পারলেও জনমানসে বেশ সাড়া ফেলেছিল । টুইটারের হ্যাশট্যাগেও ট্রেন্ডিং ছিল ‘বিকাশ কি চাবি, ডিম্পল ভাবি’।