
শেষ আপডেট: 20 February 2019 21:26
এর আগে বুধবার বিকেলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একুশে পদক ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন হাসিনা। সেখানে নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে, কারণ একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়। কীভাবে নিজের মাতৃভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা যায়।"
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ভাষার অধিকার, আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি রক্ষার চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। আমরা অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেটা অর্জন করেছি, তার সুফলটা যেন আগামী প্রজন্ম ভোগ করতে পারে। তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমরা চাই।"
একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ মিনার চত্বরে ছিল চার স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন ছিল ছ'হাজার পুলিশ। ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছিল। শহরের বেশ কিছু রাস্তা বুধবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকার থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হয়, চানখাঁরপুল, বকশীবাজার, নীলক্ষেত, পলাশী, শাহবাগ, হাইকোর্ট ক্রসিং, রোমানা চত্বর এলাকা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া কোনও গাড়ি ঢুকতে পারবে না। আগত মানুষদের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করা হয় হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে।
প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালে আজকের দিনেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন দমন করতে জারি হওয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন ছাত্ররা। ছাত্রদের মিছিলে গুলি চলে। শহিদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বার। মাতৃভাষার দাবিতে শহিদ হওয়া এই ছাত্রদের স্মরণেই প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি সেজে ওঠে শহিদ মিনার। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ফুলে ঢেকে যায় শহিদ বেদি। প্রত্যেক বাঙালির মন গেয়ে ওঠে, "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি"।