দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় এসে অপহৃত হলেন ওপার বাংলার দুই ব্যক্তি! ৬ লক্ষ টাকার মুক্তিপণের বদলে শেষমেশ মিলল মুক্তি। এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অপহৃত বসির মোল্লা ও তাঁর সঙ্গী ইলিয়াসের বয়ান শুনে ইতিমধ্যে সেলিম নামে এক অভিযুক্তকে শনাক্তও করা হয়েছে। বসিরের অভিযোগ, তাঁর কাছে টাকা আছে জেনেই সেলিমরা তাঁকে অপহরণের ছক কষে। যদিও এই ঘটনার পিছনে পাওনা টাকা আদায়ের কোনও ইতিহাস রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বসিরের দাবি, বাংলাদেশ ফরিদপুরের সদরপুর থানা এলাকার বাসিন্দা তিনি। সেখান থেকে স্ত্রীর জন্য গয়না কিনতে কলকাতায় এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন বন্ধু ইলিয়াস। তাঁরা দু'জনেই পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী। বসির জানান, শিয়ালদহে পৌঁছে সেলিম নামে পূর্ব পরিচিত এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। সেলিমের সঙ্গে এক সময় তিনি এবং ইলিয়াস দুবাই গিয়েছিলেন কাজ করতে। সেলিমের ব্যবসাও রয়েছে বাংলাদেশে। সেই সূত্রেই বেশ পরিচিত ছিলেন তাঁরা।
শিয়ালদহে দেখা হওয়ার পরে তাঁরা তিন জন একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেন একটি রেস্তরাঁয়। কথাচ্ছলে বসর জানান, তিনি গয়না কিনতে এসেছেন শহরে। সেলিম জানান তিনি ক্যানিংয়ে থাকেন। এখন উত্তর ২৪ পরগনার গুমায় একটি কাজে যাচ্ছেন। বসির ও ইলিয়াসকে তাঁর সঙ্গী হতে বলেন সেলিম। একসঙ্গে রওনা দেন তাঁরা। বসিরের বক্তব্য, তাঁর কাছে গয়না কেনার টাকা আছে সেটা বুঝতে পেরেই অপহরণের প্ল্যান সাজান সেলিম।
অভিযোগ, ট্রেন থেকে হাবড়া স্টেশনে নেমে, স্টেশনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি গাড়িতে তুলেই বসির ও ইলিয়াসের চোখ বেঁধে দেয় সেলিম। বসিরের দাবি, তাঁদের একটি অচেনা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘরের ভিতরে আটকে রাখা হয়। রিভলভারের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের বাড়িতে ফোন করতে বাধ্য করা হয়। ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাইতে বলা হয়। বসিরের অভিযোগ, তিনি এবং ইলিয়াস এতে রাজি না হলে তাঁদের বেধড়ক মারধর করে অপহরণকারীরা। বাধ্য হয়ে বাড়িতে তাঁর বাবাকে ফোন করেন বসির। মুক্তিপণের অঙ্ক নিয়ে দর কষাকষির পরে শেষমেশ ৬ লক্ষ টাকায় রফা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বসিরের দাবি, এর পর বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠান তাঁর বাবা। সেই টাকা পাওয়ার পরে, বসিরের ঘড়ি, মোবাইল, সোনার আংটি এবং মানিব্যাগে থাকা ৪৫ হাজার টাকা ও সাড়ে সাত হাজার ডলার লুঠ করে দুষ্কৃতীরা। এর পর এক জন অচেনা লোকের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বসির ওই লোকটিকে ভয় দেখান, তাঁদের ছেড়ে না দিলে বিএসএফ-এর কাছে সব ফাঁস করে দেবেন। এর পরে সেই লোকটি চলে যায়। বসির এবং ইলিয়াস শিয়ালদহ পৌঁছেই এন্টালি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
সেলিম ও তার সঙ্গীদের সন্ধান পেতে কলকাতা ও ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।