দ্য ওয়াল ব্যুরো: কান্নার স্বর তখন গোঙানিতে বদলে গেছে। ক্ষীণ সেই স্বর কানে পৌঁছেছিল মাঝির। নৌকাটা ঘাটে বাঁধার জন্য নিয়ে আসছিলেন। পাড়ের দিকে জলের মধ্যে যেখানে গাছপালা, শ্যাওলা জমেছিল, সেখানেই আটকে ছিল একটি কাঠের বাক্স। ক্ষীণ স্বরটা ভেসে আসছিল সেখান থেকেই। অবাক মাঝি বাক্সটা টেনে কাঠের পাল্লাটা খুলতেই হতভম্ব হয়ে যান। শিহরণ খেলে যায় তাঁর শিরদাঁড়ায়। ফুটফুটে একটা শিশু শুয়ে আছে বাক্সের ভেতরে। লাল চেলির কাপড়ে জড়ানো। বাক্সের ভেতরে দেবদেবীর ছবি।
ঘটনা উত্তরপ্রদেশের। গাজিপুর থানার দাদরি ঘাটের কাছে বুধবার দুপুরের পর থেকে লোকে লোকারণ্য। বহু মানুষের চেঁচামেচি, জটলা। সদ্যোজাত একটা শিশু ভেসে এসেছে গঙ্গার জলে সে নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করেছেন নৌকার এক মাঝি। বুকে করে আগলে জল থেকে তুলে এনেছেন তিনিই। বাচ্চাটির এখন ঠাঁই হয়েছে আশা জ্যোতি কেন্দ্র অনাথ আশ্রমে।
https://twitter.com/TheWallTweets/status/1405159104767619076?s=1005
নিজের ছোট্ট নৌকা নিয়ে ওই গঙ্গাতেই পাড়াপাড়ি করেন মাঝি। জানিয়েছেন, ক্ষীণ স্বরে কান্নার আওয়াজ শুনে তিনি দেখেন নদীর পাড়ে একটি কাঠের বাক্স ভেসে এসেছে। তার ভেতর থেকেই সেই আওয়াজ আসছে। বাচ্চাটির বয়স বড়জোড় ২১ দিন হবে। তাকে লাল রঙের কাপড়ে মুড়ে বাক্সের ভেতরে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। গোটা বাক্সটার ভেতরে ছিল দেবদেবীর নানা ছবি। আর শিশুটির একটি জন্মকুণ্ডলী পাওয়া গেছে বাক্সের ভেতরে। সেখানে শিশুটির নাম লেখা আছে ‘গঙ্গা’ ।
বাচ্চাটিকে দত্তক নেওয়ারই ইচ্ছা ছিল মাঝির। কিন্তু ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তাই আপাতত বাচ্চাটিকে অনাথ আশ্রমেই রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সদ্যোজাত শিশুটিকে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার পুরো প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছিল। কাঠের বাক্সটিও নতুন। কাপড়ে মুড়ে জন্মকুণ্ডলী ভরে পরিকল্পিতভাবেই বাচ্চাটিকে নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন নির্মম কাণ্ড যারা করেছে তাদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটি এখন সুস্থ আছে। তার শারীরিক পরীক্ষাও হয়েছে। বাচ্চাটির অভিভাবক কারা সে খোঁজ শুরু হয়েছে।