দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিক্ষিপ্ত ভাবে যে কথাটা ইদানীং প্রায়ই উঠে আসে বিভিন্ন মহলে, বুধবার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তা পষ্টাপষ্টিই জানালেন। বললেন, “একটা কথা না বললেই নয়! নইলে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হবে না। তা হল—সংবাদমাধ্যমে সব কিছুই আর ভাল নেই। কেউ কেউ একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কারও বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। যা সাংবাদিকতার চরিত্রের সঙ্গেই যায় না।” তাঁর কথায়, “ব্যক্তিগত ভাবে কেউ যাই বিশ্বাস করুক না কেন, যে মতাদর্শে তিনি বিশ্বাস করুন না কেন, সাংবাদিকদের সরকারি আমলাদের মতো হওয়া উচিত। খবরের রঙ বিচার করবে না।”
এদিন এডিটরস গিল্ড আয়োজিত রাজেন্দ্র মাথুর স্মৃতি বক্তৃতায় মুখ্য বক্তা ছিলেন প্রণববাবু। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে সেখানেই তিনি বলেন, “কখনও কখনও দেখা যাচ্ছে খবর আর মতামতের মধ্যে ফারাক থাকছে না, বস্তুনিষ্ঠতা আর মতের মধ্যে পার্থক্যটা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির উপর অতন্দ্র নজর রেখে চলা প্রহরীর মৌলিক ভূমিকার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কখনওই আপস করা উচিত নয়। শুধু সমালোচনা করার জন্যই সমালোচনা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনই ইতিবাচক দিক তুলে ধরতে গিয়ে সরকারের মুখপাত্র হয়ে ওঠাও ঠিক নয়।”
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এদিন যে কথা বলেছেন, ষোলো আনার মধ্যে আঠারো আনাই যে খাঁটি সে বিষয়ে অধিকাংশ পর্যবেক্ষকই একমত। তাঁরা এও মনে করেন, সংবাদমাধ্যমগুলির মধ্যে অনেকেই ইদানীং উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবরও প্রকাশ করছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কেউ কেউ ভুয়ো বা ভিত্তিহীন খবর ছাপছে। ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। আবার অনেকেই দৃষ্টিকটু ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করে কেবলমাত্র হাতেগোনা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমই খবর প্রকাশ করছে বলে তাঁদের মত।
এই প্রসঙ্গটিতেই প্রণববাবু এদিন বিশেষ ভাবে জোর দিতে চেয়েছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবাদমাধ্যম নিরাসক্ত ভাবে খবর প্রকাশ করবে। ভয় বা পক্ষপাত করবে না। তাদের প্রকাশ করা সেইসব তথ্য থেকে নিজের মত তৈরি করবে মানুষ।
টাকা দিয়ে খবর প্রকাশ করা তথা ‘পেইড নিউজ"-এর ব্যাপারে এদিন তীব্র সমালোচনা করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “ইদানীং অনেক প্রকাশকই পেইড নিউজ বা এ ধরনের বিপণন কৌশল নিয়ে চলছে। এই অনিয়ম চলতে পারে না। এধরনের প্রলোভন এড়িয়ে আত্মসংশোধন করা জরুরি।”
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যম যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে তা হলে তাদের কাজ ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘মতামতের বহুত্ববাদের’ প্রতিফলনও থাকা উচিত। অর্থাৎ সবার মতই প্রকাশ করা উচিত। তাতেই গণতন্ত্র ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারবে। তাতে ভারতীয়ত্বও সুরক্ষিত থাকবে। নইলে ভারতীয়ত্ব বলে কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।