দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ বাড়ছে? শহরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল জানাচ্ছে, কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভেও কালো ছত্রাকের সংক্রমণ বা মিউকরমাইকোসিস বেড়েছিল। ফের এই ধরনের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ দেখা গেছে কয়েকজন রোগীর। শহরের দুটি হাসপাতালে কালো ছত্রাকের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি ৫০ বছরের এক মহিলা ও ষাটোর্ধ্ব এক প্রবীণ।
করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণে নাজেহাল দেশ। কালো ছত্রাকের সংক্রমণজনিত রোগ তথা মিউকরমাইকোসিস হানা দিয়েছে দেশের অনেক রাজ্যেই। করোনা রোগীদের শরীরেই ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি ধরা পড়ছে। মিউকরমাইসিটিস নামে এক শ্রেণির ছত্রাকের সংক্রমণে যে রোগ হয় তাকে বলে মিউকরমাইকোসিস। পচে যাওয়া গাছের পাতা, নোংরা-আবর্জনা, প্রাণীর মৃতদেহ বা মলমূত্র ইত্যাদি থেকে এই ছত্রাক জন্ম নেয়। এদের রেণু বাতাসে মিশে ভেসে বেড়ায়। শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে গেলে দেহকোষগুলিকে সংক্রামিত করে। নাক, মুখ, ত্বকের ছিদ্র দিয়েও সহজে ঢুকে পড়ে মানুষের শরীরে। শরীর যদি দুর্বল হয় ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে আসে তাহলে এই ছত্রাকের রেণু শরীরে ঢুকলে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরের যে অঙ্গে সংক্রমণ ছড়ায় সেখানে কালো আস্তরণের মতো পড়ে যায়, নাক থেকে কালো দুর্গন্ধযুক্ত তরল বেরতে দেখা যায় অনেকের, তাই একে কালো ছত্রাকের রোগ বলা হয়।

সিএমআরআই হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. অর্জুন দাসগুপ্ত বলছেন, যে দুই রোগীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে তাঁদের ডায়াবেটিস ও অন্যান্য কোমর্বিডিটি রয়েছে। ডাক্তারবাবু বলছেন, ডায়াবেটিক কিটো অ্যাসিডোসিস বা ডিকেএ নামের সমস্যা একবার হয়ে গেলে করোনার কারণে জটিলতা আরও বেড়ে যায়। তখন সেই পরিস্থিতিকে সামলানোর জন্য যে ধরনের ওষুধ দেওয়া হয় তার ডোজ বেশি হলেই বিপদ। যেমন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ। এর ব্যবহার নিয়ম মেনে না হলে নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তখন মিউকরমাইকোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মিউকরমাইকোসিস থেকে বাঁচতে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষ করে সতর্ক থাকতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্লাড সুগার টেস্ট করাতে হবে, মিউকরমাইকোসিসের সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরমর্শ নিতে হবে। চোখ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, চোখ না নাকের চারপাশে ব্যথা হতে পারে। নাকের ওপর কালচে ছোপ, নাক থেকে কালো তরল বেরিয়ে আসা, জ্বর, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন বমি, মুখের একপাশের পেশিতে ব্যথা, দাঁত আলগা হয়ে আসা, দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে বা ডবল ভিশন, ত্বকের সংক্রমণ, র্যাশ দেখলেই সতর্ক হতে হবে।