দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদ কাণ্ড নিয়ে সারা দেশে জ্বলছে প্রতিবাদের আগুন। ঘটনার এক সপ্তাহ না পেরোতেই আরও এক নৃশংস ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার ঘটনা সামনে এল ফের। মঙ্গলবার বিহারের বক্সারে অভিযোগ উঠেছে, এক মহিলাকে গণধর্ষণ করে গুলি করা হয়। তার পরে পুড়িয়ে মারা হয় তাঁকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বক্সারের ইটাডি এলাকার ওই ঘটনায় নিহত মহিলার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ভোর ছ'টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পোড়া দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কে বা কারা এমনটা ঘটালো, কোনও আন্দাজ মেলেনি এখনও। ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজখবর নিয়েও কোনও তথ্য মেলেনি এখনও।
তবে প্রাথমিক তদন্ত বলছে, প্রথমে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর গুলি করে খুন করা হয় তাঁকে। এর পরে সম্ভবত প্রমাণ লোপাট করতে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় দেহ, ঠিক যেভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল হায়দরাবাদ কাণ্ডের নির্যাতিতা তরুণী পশু চিকিৎসককে।
সূত্রের খবর, বিহারের যে এলাকা থেকে ওই তরুণীর দেহ পাওয়া গিয়েছে, সেই এলাকাটি একেবারেই ফাঁকা। লোকবসতি নেই। মহিলার দগ্ধ দেহের পাশ থেকে কোনও জিনিসপত্রও মেলেনি। সেই কারণেই ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও অভিযুক্তদের খোঁজার ব্যাপারে কোনও সূত্র পায়নি পুলিশ। কোনও অভিযোগ বা নিখোঁজ ডায়েরিও জমা পড়েনি, তাই জানা যায়নি নির্যাতিতার পরিচয়ও।
হায়দরাবাদ নিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে দেশের নানা প্রান্তে। কড়া আইন আনার কথা বলছেন অনেকে, তুমুল গণরোষ আক্রোশে পৌঁছেছে বিভিন্ন স্তরে। তার মধ্যেই পরিস্থিতি যে সে তিমিরেই, তা আরও এক বার স্পষ্ট হল বিহারের এই ঘটনায়।
হায়দরাবাদের পরে বিশেষ সতর্কতাও নিয়েছিল বিহার পুলিশ। প্রশাসনিক বৈঠক করে পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা আরও বেশি তৎপর থাকে। কিন্তু পুলিশের এই তৎপরতা সত্ত্বেও কেমন করে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল, প্রশ্ন তুলেছেন সকলে।