
শেষ আপডেট: 22 February 2022 06:20
ফর্টিসের জরুরি বিভাগের প্রধান কনসালট্যান্ট ডা. মহম্মদ নাদিম বলছেন, ওই মার্কিন মহিলার ভ্রমণের নেশা আছে। মাস দুয়েক আগে তিনি আমাজনের জঙ্গলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শরীরে বটফ্লাইয়ের সংক্রমণ হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। ডা. নাদিম বলছেন, ছয় সপ্তাহ আগে ওই মহিলার চোখ হঠাৎ করেই ফুলতে থাকে। প্রথমটা কিছু বোঝা যায়নি। কিন্তু ক্রমশ ডান চোখের ওপরের পাতায় ক্ষত তৈরি হয়। চোখ থেকে জল পড়ত সবসময়, সেই সঙ্গে জ্বালা, চুলকানি। চোখের ওপরের পাতাতেই বাসা বেঁধেছিল তিনটি বটফ্লাই। চোখের ত্বক ভেদ করে তারা ক্রমশ ঢুকছিল ভেতরে। জীবনচক্রও শুরু করে দিয়েছিল। আর বেশি দেরি হলে চোখের বিস্তর ক্ষতি হত বলেই মনে করছেন ডাক্তাররা।
১০ থেকে ১৫ মিনিটের অস্ত্রোপচারে তিনটি মাছি বের করে আনেন ডা. নারোলা ইয়াঙ্গার। তিনি জানিয়েছেন, অ্য়ানাস্থেশিয়ার দরকার পড়েনি। তিনটি বটফ্লাই জীবন্ত ছিল। তাদের ডিম থেকে লার্ভা বা ম্যাগট বের হতে শুরু করেছিল। মায়াসিস দেখা দিয়েছিল চোখে। এই লার্ভা চোখে ছড়িয়ে পড়লে আরও ক্ষতি হত।
মায়াসিস এমন এক ধরনের সংক্রমণ যা বটফ্লাইয়ের থেকে হয়। এই ধরনের পরজীবীরা তাদের লার্ভা অন্য প্রাণির শরীরে ঢুকিয়ে দেয়। প্রাণির দেহরস, রক্ত-মাংস খেয়ে লার্ভা বড় হয়। নতুন করে জীবনচক্র শুরু করে। এমনও দেখা গেছে, স্ত্রী হিউম্যান বটফ্লাই (Dermatobia hominis) কোনও মশাকে পাকড়ও করে তার শরীরে ডিম পেড়ে উড়ে যায়। সেই ডিম মশার শরীরে বাড়তে থাকে। মশা রক্ত খাওয়ার জন্য মানুষের শরীরে বসলে নিজের অজান্তেই বটফ্লাই এর ডিম বা লার্ভা মানুষের চামড়ায় পৌছে দেয়। এরপর বটফ্লাই লার্ভা চামড়ার নীচে গর্ত করে ঢুকে পড়ে আর মানুষের কোষ খেয়ে বড় হতে থাকে। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ দিনেরও বেশি সময় থাকে। পরিণত হলে সেগুলো ত্বক ভেদ করে শরীরের বাইরে বের হয়ে আসে। বটফ্লাই একসঙ্গে ৩০টিরও বেশি ডিম পাড়তে পারে। সেগুলো ত্বকের নীচে ফেটে লার্ভা বের হয়ে আসে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'