
প্রায় মাস দুয়েক হয়ে গেল, একের পর এক দাবানলে পুড়ে যাচ্ছে আমাজন অরণ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ৪০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির গাছ, ২৫ লক্ষ প্রজাতির পতঙ্গ, হাজার দুয়েক পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজাতি এবং আড়াই হাজার প্রজাতির মাছের বাসভূমি এই আমাজন। দক্ষিণ আমেরিকায় আমাজন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা চিরসবুজ আমাজন অরণ্যে হাজার হাজার বছর ধরে বসবাস তাদের। নিঃশব্দে পুড়ে যাচ্ছে তারা।
উপগ্রহ চিত্রে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে, এই আগুন প্রাকৃতিক নয়, ‘ম্যানমেড’। বিশ্ব জুড়ে সমালোচিত হয়েছে ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট বোলসোরানোর অরণ্য-নীতি নিয়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি পদে বসার পরেই অরণ্য নষ্ট করে চাষাবাদের জমি তৈরি করা এবং খননের কড়াকড়ি আলগা হয়েছে। দৌরাত্ম্য বেড়েছে জমিমাফিয়া ও খনিমাফিয়াদের। তারই জেরে এই আগুনের পালা বলে মনে করছেন অনেকেই।

সরকারি হিসেবই বলছে এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনের জঙ্গলে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানল হয়েছে। ২০১৩ সালের পরে এই সংখ্যা সব চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে বনাঞ্চলে মোট আগুন লাগার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৭৫৯।ভৌগোলিক ভাবে বিশ্বের বৃহত্তম এই বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকীয় গড়ে ওঠা এই গভীর রেনফরেস্টকে পৃথিবীর ফুসফুসও বলা হয়। কিন্তু লাগাতার আগুনে নিঃশব্দে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এই ফুসফুস! ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাজনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এতে গোটা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনেও প্রবল প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন...
https://www.four.suk.1wp.in/indigenous-leader-kadjyre-kayapo-in-brazils-amazon-tries-to-thwart-loggers/