দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারি দিয়ে রাখা কফিন। চার দিকে শয়ে শয়ে মানুষের ভিড়। কারও চোখে জল। কারও চোয়াল শক্ত, ফুঁসছেন। শোক, রাগ মিলেমিশে একাকার। এসবের মধ্যেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক তরুণী হাতে পাহাড়ি গোলাপি ফুলের তোড়া হাতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন একটি নির্দিষ্ট কফিনের সামনে। ফুলের তোড়া কফিনের উপর রাখতে গিয়েও পারছেন না!
বছর একুশের ওই তরুণীর স্বামীর দেহ কফিনে বন্দি। বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১২ দিন আগে। নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রামে সেনার গুলিতে যে গ্রামবাসীদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে ছিলেন এই তরুণীর স্বামীও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েটির মা ফুসফুসের ক্যানসারে কয়েক মাস আগে মারা গিয়েছেন। তারপর বৃদ্ধ বাবা ওটিং গ্রামের যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন। পেশায় ছিলেন কয়লা খনির শ্রমিক।
শনিবার একটি গাড়িতে চেপে ফিরছিলেন কয়লা খনির আট শ্রমিক। তাঁদেরই জঙ্গি ভেবে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় অসম রাইফেলসের জওয়ানরা। যাকে ইন্টালিজেন্স ফেলইওর বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বিয়ের পর বাড়িতে দুদিন কাটিয়ে খনির কাজে চলে গিয়েছিলেন নিহত তরুণ। শনিবার ফিরে দুটো রাত কাটিয়ে ফের সোমবার তাঁর কাজে যাওয়ার কথা ছিল। স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন সদ্য বিয়ে হওয়া তরুণী। যিনি এলেন কফিনবন্দি হয়ে।
ওটিং গ্রামজুড়ে এখন শুধুই হাহাকার। কারও স্বামী, কারও ছেলে, কারও ভাই নিহত হয়েছেন। যাঁদের অধিকাংশই কয়লা খনির শ্রমিক, নয় চাষের কাজ করেন। তার মধ্যেই বিয়ের ১২ দিনের মাথায় বিধবা হওয়া তরুণীর কান্না যেন সবাইকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।