
তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 23 June 2024 11:20
কত বড় মন হলে এমন সাংসদ পাওয়া যায়!
আবার এও ঠিক, শুধু মন থাকলেও হবে না, পকেটের গভীরতাও থাকা চাই। নইলে কবে কোথায় শোনা গিয়েছে যে এক জন সাংসদ একশ জনকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দিল্লিতে। যাঁরা তাঁকে জিতিয়েছেন, তাঁরা যেন লোকসভায় সাংসদ পদে তাঁর শপথ গ্রহণের সাক্ষী থাকতে পারেন। তা ছাড়া শুধু উড়িয়ে নিয়ে যাওয়াও তো নয়, দিল্লির এই প্রখর গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হোটেলে তাঁদের থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করাও কম কথা নয়।
এমন বিরল ঘটনা ঘটতে চলেছে এই বাংলাতেই। যাঁর কথা হচ্ছে, তিনি লোকসভা ভোটে বাঁকুড়া আসনে জয়ী প্রার্থী তথা তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী। রবিবাসরীয় বিকেলে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে একশ জন কর্মীকে নিয়ে অরূপ যাচ্ছেন দিল্লিতে। সোমবার লোকসভায় তিনি সাংসদ হিসাবে শপথ নেবেন। অরূপের ইচ্ছা কর্মীরা যেন সেই মহতী অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে পারেন।
শনিবার বিকেলে দ্য ওয়ালকে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “হ্যাঁ কাল যাচ্ছি। কর্মীরাই তো সব। এত ভোটে কর্মীরা আমাকে জিতিয়েছেন।” তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কীভাবে নিয়ে যাবেন? অরূপ জবাবে বলেন, “আমি যখন বিমানে যাব তখন কর্মীরা কি আর ট্রেনে যাবেন? সবাই প্লেনে করে যাব। অন্ডাল থেকে কাল বিকেল চারটের ফ্লাইট।”
সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভায় ধুন্ধুমার ঘটে গেছিল। ভিজিটরস গ্যালারি থেকে দুই যুব ঝাঁপ দেন লোকসভার মধ্যে। তার পর থেকে ভিজিটরস গ্যালারিতে লোকজন বসানো আরও নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে। শুধু কি তাই! লোকসভার দেখাদেখি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও এখন ভিজিটরস গ্যালারি ফাঁকা রাখা হচ্ছে। এই অবস্খায় অরূপ চক্রবর্তী কীভাবে একশ জন কর্মীকে লোকসভায় দর্শক গ্যালারিতে সুযোগ করে দিতে পারবেন, সেই প্রশ্ন অবশ্য ঝুলে রইল।
এদিকে অরূপের এই কাণ্ডকারখানা নিয়ে দলের মধ্যে এরই মধ্যে নানারকম আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এত আড়ম্বর নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কিনা তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।
বাঁকুড়া থেকে এক সময়ে টানা জিততেন সিপিএমের বাসুদেব আচারিয়া। বাসুদেববাবু ছিলেন একেবারেই ছাপোসা। পরে তাঁকে হারিয়ে দেন মুনমুন সেন। আবার উনিশের লোকসভা ভোটে মুনমুনকে সরিয়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে বাঁকুড়ায় প্রার্থী করেন মমতা। কিন্তু সুব্রতবাবুকে হারিয়ে দেন বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার।
এবার অরূপ চক্রবর্তী যে জিতবেন তা তৃণমূলের অনেকেই আন্দাজ করতে পারেননি। বাঁকুড়া আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়েও ঠেলাঠেলি ছিল দলের মধ্যে। সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতে চাইছিলেন। কিন্তু তাঁকে লোকসভায় প্রার্থী করতে রাজি ছিলেন না মমতা-অভিষেক। এই অবস্খায় জেলা থেকেই অরূপের নামে প্রস্তাব আসে। সূত্রের খবর, অরূপও কালীঘাটকে কথা দিয়েছিলেন, তাঁকে টিকিট দিলে বাকিটা তিনি বুঝে নেবেন। শেষমেশ তাঁকেই প্রার্থী করা হয়। খুব বড় ব্যবধানে না হলেও জিতে যান অরূপ চক্রবর্তী।
এদিন অরূপকে নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি মুখপাত্র সজল ঘোষ বলেন, “সাংসদ পদে শপথ নিতেই একশ জনকে প্লেনে করে নিয়ে যাচ্ছে। কীরকম টাকা থাকলে এটা করা যায় অনেকেই আন্দাজ করতে পারছে”। সজলের কথায়, ‘উনি মন্ত্রী পদে শপথ নিলে কী হত সেটাই ভাবছি!’