
শেষ আপডেট: 24 February 2023 05:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশে প্রাণের খোঁজ করতে গিয়ে বারে বারেই অবাক হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই হয়তো পৃথিবীর মতোই নীল গ্রহের খোঁজ মিলল। আবার এমন গ্রহ দেখা গেল যার পিঠ থেকে ভসভস করে উঠে আসছে জলের ধোঁয়া। অতএব ভিন গ্রহেও যে প্রাণ থাকতে পারে তা একপ্রকার নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা। অপেক্ষা শুধু হাতে নাতে প্রমাণের। দিনকয়েক আগে বিজ্ঞানীদের একটি খোঁজ রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। আমাদের সৌরমণ্ডলের মতোই নাকি আরও একটা সৌরজগত আছে। সেখানে লাল বামন নক্ষত্রকে ঘিরে পাক খাচ্ছে দুটি যমজ গ্রহ। ওই গ্রহ দুটিতে নাকি জল থাকার প্রবল সম্ভাবনা আছে। তার মানে পৃথিবীর মতোই প্রাণ আছে কি?

নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপে আবিষ্কার হয়েছে পৃথিবীর থেকে প্রায় দেড়গুণ বড় আকারের গ্রহ। হোস্ট স্টার-সহ এই জোড়া গ্রহ আবিষ্কারের পর আলোড়ন পড়ে গেছে বিজ্ঞানী মহলে। এই দুটি যমজ গ্রহের গঠনও আলাদা। কারণ এই দুটি এক্সোপ্ল্যানেট সৌরজগতের বাইরে আবিষ্কৃত অন্য কোনও গ্রহের মতো নয়। এই দুটি গ্রহ জলে ভরা বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর মতই এই জোড়া গ্রহেরও বেশিরভাগটাই জল। আর বাকিটা পাথুরে বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই দুই যমজ গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে কেপলার ১৩৮সি ও কেপলার ১৩৮ডি।

এমনিতেও চার হাজারের বেশি ভিনগ্রহ আবিষ্কার হয়েছে এ যাবৎ। গত শতাব্দীর নয়ের দশক থেকে আজ পর্যন্ত ২৭/২৮ বছরে প্রায় চার হাজার ভিন গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর আগে কোনও ভিন গ্রহেই একই সঙ্গে তরল জল ও বায়ুমণ্ডলের উপস্থিতি আর সেই গ্রহটিকে তার নক্ষত্রমণ্ডলের হ্যাবিটেব্ল জোনে থাকতে দেখা যায়নি। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বেশ বুঝতে পারছেন, আমাদের চেনাশোনা ছায়াপথেই পৃথিবীর মতো এমন অনেক গ্রহ ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে যেখানে প্রাণের বাসযোগ্য পরিবেশ রয়েছে।
আসলে এই ব্রহ্মাণ্ডে নানা জাতের, নানা গোত্রের গ্রহ আছে। কেউ পৃথিবীর মতো, কেউ পৃথিবীর চেয়ে ছোট ‘সাব-আর্থ’ আবার কেউ পৃথিবীর চেয়ে বড় ‘সুপার আর্থ।’ এই সুপার আর্থগুলিতে জল ও কার্বন থাকার সম্ভাবনা বেশি। সুপার আর্থদের তাপমাত্রাও হয় অনেকটা পৃথিবীর মতোই। অর্থাৎ হ্যাবিটেবল জ়োন বা প্রাণের বাসযোগ্য পরিবেশ রয়েছে। খান পঞ্চাশেক এমন গ্রহের খোঁজ মিলেছে যাদের নিয়ে এখন নাড়াচাড়া করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর যমজও বেরিয়ে পড়েছে এই ফাঁকে, এক্সোপ্ল্যানেট ‘টিওআই ৭০০ ডি’। নীলপানা গ্রহ ঠিক যেন নতুন পৃথিবী। এখনও পর্যন্ত পাঁচশোরও বেশি গ্রহ, বামন গ্রহ ও উপগ্রহের খোঁজ মিলেছে যাদের সঙ্গে পৃথিবীর বিস্তর মিল। এই গ্রহগুলির মধ্যে কেপলার-৪৫২বি-ই আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর মতো, জল থাকার সম্ভাবনা প্রভূত বেশি।