দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্মের তিন দিনের মাথায় করোনা আক্রান্ত হয়ে, ৩২ দিন ধরে লড়াই করে, অবশেষে জিতে বাড়ি ফিরল একরত্তি ছেলে। শহর কলকাতার বুকে এই দুর্দান্ত সাফল্যের ঘটনা ঘটেছে বুধবার।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৬ অগস্ট ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের বাচ্চাটির জন্ম হয় ৩১ সপ্তাহের নাথায়। তার ঠিক দু'দিন পরে তার মা করোনা পজিটিভ হন। তবে একটি নয়, দুটি যমজ শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। একটি কন্যাসন্তান ও একটি পুত্রসন্তান। মায়ের পরেই করোনা ধরা পড়ে তাদেরও। পরিস্থিতি খারাপ হলে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয় ছোট্ট মেয়েটিকে। দিন চারেক লড়াইয়ের পরে হার মানে সে।
এদিকে পুত্রসন্তানের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। একসময়ে মা ও শিশুকে দু’টি আলাদা বেসরকারি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করানো হয়। মায়ের কোনও উপসর্গ না থাকায় তিনি হাসপাতাল থেকে হোম আইসোলেশনে চলে যান ১৪ দিনের জন্য। এর পরে তাঁর রিপোর্টও নেগেটিভ আসে।
আনন্দপুরের ফর্টিস হাসপাতালে চিকিৎসা চলতে থাকে সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের। বাচ্চাটির জন্মের পরে প্রথম করোনা টেস্ট হওয়ার পরে, ৮ দিন ও ১৬ দিনের মাথায় আরও দুবার করোনা টেস্ট করানো হয়। সেই রিপোর্টও দুবারই পজিটিভ আসে। ২১ দিন পর্যন্ত অক্সিজেন সাপোর্টেই রাখা হয় তাকে।
এর পরে ৩০ অগস্ট চতুর্থ টেস্ট করা হলে তার কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে তখন সমস্যা হয়, ট্র্যাকিকার্ডিয়ার, অর্থাৎ দ্রুতবেগে চলছিল হৃদপিণ্ড। ইসিজি রিপোর্টে অস্বাভাবিকতা ছিল। কোভিড সংক্রমণ যে শিশুদের হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করছে, তা কয়েক দিন ধরেই আলোচিত। সেই প্রভাবই পড়েছিল বাচ্চাটির উপর।
শেষমেশ গতকাল, বুধবার সেই শিশুকে ফিরিয়ে দেওয়া হল তার পরিবারের কাছে, সুস্থ অবস্থায়। তার ওজন বেড়ে হয়েছে, ১ কেজি ৮০০ গ্রাম। চিকিৎসকরা বলছেন, সম্ভবত বিশ্বের সবথেকে কম ওজনের শিশু করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরেও সুস্থ হয়ে উঠল। এর আগে ব্রিটেনে দেড় কেজি ওজনের সদ্যোজাত করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে সুস্থ হওয়ার নজির ছিল।