ছক ভেঙে মানুষের মন জিতেছেন জেসিন্ডা, এবার সেরে ফেললেন আংটি বদল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তানকে কোলে নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সম্মেলনে যোগ দিয়েই সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন তিনি৷ তার পরে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পরে মুসলিম মহিলাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে, কার্যত নজির তৈরি করেছিলেন। রাষ্ট্রনায়ক হিসে
শেষ আপডেট: 5 May 2019 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তানকে কোলে নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সম্মেলনে যোগ দিয়েই সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন তিনি৷ তার পরে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পরে মুসলিম মহিলাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে, কার্যত নজির তৈরি করেছিলেন। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর সংবেদনশীল ভূমিকা সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছিল। তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন৷ ফের শিরোনামে তিনি। কারণ, সাম্প্রতিক ইস্টারের ছুটিতে সেরেছেন এনগেজমেন্ট। তারই প্রমাণস্বরূপ আঙুলে জ্বলজ্বল করছে হীরের আংটি।
ছুটি শেষের পরে শুক্রবার তিনি দফতরে ঢুকতেই তাঁর আঙুলে একটি হীরের আংটি চোখে পড়ে সকলের৷ স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে তাঁকে ঘিরে, বাগদানের আংটি বুঝি? প্রশ্ন শুনেই হেসে ফেলেন জেসিন্ডা৷ স্বীকারও করে নেন, ইস্টারের ছুটিতে এনগেজমেন্ট সেরেছেন তিনি৷ বিয়েও করবেন খুব তাড়াতাড়ি৷ দীর্ঘদিনের সঙ্গীকেই বিয়ে করছেন নিউজিল্যান্ডের ৩৮ বছর বয়সি প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা৷
টেলিভিশন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডকে ২০১২ সাল থেকে ভালবাসেন জেসিন্ডা আর্ডেন। প্রেমের সম্পর্ক গভীর হয়েছে এত বছরে৷ গত বছর জুনে তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও জন্ম নিয়েছে৷ কন্যার নাম নেভ তে আরোহা৷

রাষ্ট্রনেতার দায়িত্ব সামলানোর সময়েই সন্তানের জন্ম দেওয়ার উদাহরণ এত দিন ছিল প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর৷ এ ছাড়া সারা বিশ্বের আর কেউ দেশের দায়িত্ব পালন করার সময়কালে মা হননি৷ সে দিক থেকে জেসিন্ডা তৈরি করলেন নতুন উদাহরণ।
শুধু তা-ই নয়। তাঁকে একাধির বার সংসদে দেখা গিয়েছে, মেয়েকে কোলে নিয়েই। সম্প্রতি তো নিউ ইয়র্কের রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনেও মেয়েকে নিয়েই যোগ দিতে দেখা গেছে তাঁকে৷ কেবল বক্তব্য রাখার সময় তাঁর সন্তান ছিল সঙ্গী গেফোর্ডের কোলে৷ সেই ছবিই ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ সকলের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন জেসিন্ডা আর্ডেন।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হিসেবে গেফোর্ডও পালন করেছিলেন গুরু দায়িত্ব৷ বাড়িতে থেকেই মায়েরল কোনও অভাব বুঝতে না দিয়ে কন্যাকে বড় করে তুলছিলেন তিনি৷ তাঁদের বিয়ে নিয়েও কম জল্পনা হয়নি৷ অনেকেই মনে করছিলেন, সন্তানের জন্মের পরে তার কথা ভেবে বিয়ে করবেন জেসিন্ডা-গেফোর্ড৷
কিন্তু জল্পনাই সার৷ বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই জেসিকা বলতেন, এখনও ভাবেননি৷ তবে এবার ভাবনাচিন্তার পর্ব শেষ৷ ক্লার্ক গেফোর্ড এবং জেসিন্ডা আর্ডেন এবার ছোট্ট নেভের বাবা, মা হতে চেয়ে এক ধাপ এগোলেন৷ ইস্টারের ছুটিতে তাঁরা মনস্থির করে এনগেজমেন্ট পর্বও সেরে ফেলেছেন৷
জেসিন্ডা বলছেন, গেফোর্ডকে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে তিনি খুব খুশি৷ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে গেফোর্ড তাঁকে আগলে রেখেছেন৷ সুযোগ্য অভিভাবকের মতো সন্তানের দায়িত্ব পালন করেছেন৷ এমন নির্ভরযোগ্য সঙ্গীকে এবার স্বামীর সম্মান দিতে চান জেসিন্ডা৷ তবে তাঁদের বিয়ে ঠিক কবে, তা কিন্তু এখনও অজানা৷