
শেষ আপডেট: 29 June 2020 18:30
এম-৭৭৭ হাউইৎজার টাইটেনিয়ামের তৈরি। ওজনে ৪ টনের কাছাকাছি। সহজেই আকাশপথে উড়িয়ে এই কামানগুলিকে যে কোনও দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এম-১০৭, এম-৭৯৫, ইআরএফবি ও এম৯৮২—এই চার ধরনের গোলা ভরা যায় এই কামানে। ২৪-৪০ কিলোমিটার রেঞ্জ অবধি ভারী গোলাবর্ষণ করতে পারে হাউইৎজার কামান। মিনিটে দুই থেকে পাঁচটি গোলা ছুড়তে পারে হাউইৎজার। আমেরিকার থেকে কেনার পরে এই কামানের পাল্লা, গতি ও ক্ষমতা পোখরানে পরীক্ষা করে দেখেছিল ভারত।
ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার -৩ এয়ারক্রাফ্ট টি-৯০ ট্যাঙ্ক থেকে যাবতীয় যুদ্ধাস্ত্র ১৬,৬১৪ ফুট উচ্চতায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি পৌঁছে দিচ্ছে। এই লাইট ওয়েট হাউইৎজার কামানও উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সীমান্তে। অন্যদিকে, দৌলত বাগ ওল্ডি সেক্টরে ভারতীয় বাহিনীকে সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস এয়ারক্রাফ্ট।
সীমান্ত সংঘাতের পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। গালওয়ান উপত্যকার ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্টে তাঁবু খাটিয়ে বসে গেছে চিনা সেনা, সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে এমনই ছবি। অন্যদিকে, তিব্বতের কাছে এয়ারবেসে চিনের বায়ুসেনার তৎপরতাও বাড়ছে বলে খবর। ভারতের আকাশসীমাকে সবরকমভাবে সুরক্ষিত রাখতে কমব্যাট ফাইটার জেট নামিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। চিনা গতিবিধি নজরে রাখতে টহল দিচ্ছে ভারতের লড়াকু বিমান সুখোই-৩০, মিগ-২৯ ফাইটার জেটের নয়া ভার্সন, মিরাজ-২০০০ ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট। অন্যদিকে শক্তিশালী অ্যাটাক হেলিকপ্টার অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই, সিএইচ-৪৭ এফ চিনুক মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টারও নামিয়েছে বায়ুসেনা। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে নামানো হয়েছে নৌসেনার পি-৮১ বিমান। ইজরায়েল থেকে কেনা সশস্ত্র হেরন ড্রোন উড়িয়েছে ভারত।
রাফাল ফাইটার জেট দ্রুত ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে কথাবার্তাও চলছে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে প্রথম দফায় ৬টি রাফাল ফাইটার জেট ভারতের হাতে তুলে দেবে ফরাসি সংস্থা। অন্যদিকে, সীমান্ত ও আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার জন্য রাশিয়ার থেকে এস-৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট ওয়েপন সিস্টেম তথা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম কিনতে চলেছে ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ থেকে চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ৪০এন৬ই মিসাইল, ৪৮এন৬ডিএম মিসাইল, ৯এম৯৬ই২ ও ৯এম৯৬ই মিসাইল ছোড়া যায়। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশপথে আসা নানা ধরনের আক্রমণকে রুখে দিতে সক্ষম এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ।