দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে কয়েকজনকে আটক করে। তার পর থেকেই অভিযোগ উঠছে, সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। পুলিশ বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গুলি চালাচ্ছেন এক পুলিশকর্মী।
সোমবার শোনা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র গুলির ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের একজনের নাম আজাজ। পুলিশের মুখপাত্র বলেন, গুলি নয়, টিয়ার গ্যাসের শেল ফেটে কয়েকজনের আঘাত লেগে থাকতে পারে। কিন্তু একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গোলমালের সময় জনৈক পুলিশকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র বার করে গুলি চালালেন। মথুরা রোডের কাছে ওই ভিডিও তোলা হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, ওই পুলিশকর্মী প্রথমে শূন্যে গুলি করলেন। তারপরে দৌড়ে ঢুকলেন গলির মধ্যে। গলি থেকে আরও তিনবার গুলির আওয়াজ ভেসে এল।
একই এলাকায় তোলা আর একটি ভিডিও চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, গুলি লেগে একজন মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে, তা সত্য কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে। সোমবার জানা গিয়েছিল, আজাজ নামে এক ছাত্র গুলির ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, রবিবার আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছিল।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বলছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যত অ-মুসলিম ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে উৎপীড়িত হয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতে এসেছেন, তাঁরা সকলেই শরণার্থী হিসেবে এ দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই আইনের বিরুদ্ধে যে সব মামলা দায়ের হয়েছে, সে সবের মোদ্দা বক্তব্য হল, নাগরিকত্ব পাওয়ার মাপকাঠি কখনওই ধর্ম হতে পারে না। এটা সংবিধান বিরোধী।
ওই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে অসম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন।