দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার নতুন স্ট্রেনের খোঁজ মিলল নাইজেরিয়াতেও। আফ্রিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) সূত্রে এই খবর সামনে এসেছে। সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে বলে সতর্কতা জারি হয়েছে।
ব্রিটেনে যে নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে তার সঙ্গে এই নতুন প্রজাতির মিল আছে কিনা সে ব্যাপারে বেশি তথ্য এখনও মেলেনি। আফ্রিকার সিডিসি জানিয়েছে, ব্রিটেন বা দক্ষিণ আফ্রিকার মিউট্যান্ট স্ট্রেনের সঙ্গে এর খুব একটা যোগসূত্র নেই। মনে করা হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি। হতে পারে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিনের গঠন বদলে এই স্ট্রেন তৈরি হয়েছে।
সিডিসি-র ডিরেক্টর জন কেঙ্গাসং জানিয়েছেন, নতুন স্ট্রেন কতটা সংক্রামক সেটা এখনও জানা যায়নি। এর জিনের বিন্যাস বা জিনোম সিকুয়েন্স বের করা হচ্ছে। ঠিক কোথায় মিউটেশন বা জিনের গঠন বদলেছে সেটা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাহলেই বোঝা যাবে এই নতুন স্ট্রেনও সুপার স্প্রেডার কিনা।
দক্ষিণ আফ্রিকাতেও করোনার নতুন প্রজাতি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সে দেশের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে যা আরও বেশি ছোঁয়াচে। ওই স্ট্রেনও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের এই নয়া ভ্যারিয়ান্টের নাম ‘৫০১.ভি২’ । খুব দ্রুত বিভাজিত হওয়ার ক্ষমতা আছে এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেনের। জিনগত বদল বা জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এই নয়া স্ট্রেন আরও বেশি সংক্রামক।
সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন প্রায় পাঁচ হাজার জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে। তাতেই দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি স্ট্রেন একে অপরের থেকে আলাদা। এত দ্রুত জিনের গঠন বিন্যাস বদলে ফেলতে পারে করোনা যে প্রতিটি ভাইরাল স্ট্রেন মানুষের শরীরে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করার উপায় খুঁজে নিতে পারে। এই ঘন ঘন বদলের জন্য তাদের রিসেপটর বাইন্ডিং ডোমেন অর্থাৎ যে অংশকে কাজে লাগিয়ে তারা মানুষের দেহকোষে ঢুকতে পারে, তারও পরিবর্তন হয়ে যায়। এই কারণেই মানুষের নানা অঙ্গের কোষে ঢোকার রাস্তা খুঁজে নিতে পারে করোনা।
করোনার এই ‘৫০১.ভি২’ স্ট্রেন ব্রিটেনেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার দাবি, ব্রিটেনের নতুন স্ট্রেনের থেকে বেশি সংক্রামক নয় এই ভ্যারিয়ান্ট। এখন আফ্রিকাতেও এই দুই প্রজাতি ছড়িয়েছে নাকি এদের আবার মিউটেশন হয়ে নতুন প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে সেটা পরীক্ষা করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।