
শেষ আপডেট: 6 December 2020 18:30
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জেনিফার এ দৌদনা[/caption]
‘সেল’ (Cell) সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গ্ল্যাডস্টোন ইনস্টিটিউট, বার্কলে, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর গবেষকরা সম্মিলিতভাবে এই টেস্ট কিট বানিয়েছেন। মুখ্য গবেষক গ্ল্যাডস্টোনের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর নোবেলজয়ী জেনিফার দৌদনা এবং গ্ল্যাডস্টোনেরই ভাইরোলজিস্ট মেলানি ওট। টেস্ট কিট ডিজাইন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইঞ্জিনিয়ার ড্যানিয়েল ফ্লেচার।
বাঁ দিকে, গ্ল্যাডস্টোন ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ডিরেক্টর মেলানি ওট, (ডান দিকে) পারিনাজ ফোজৌনি।[/caption]
ক্রিসপার জিন এডিটিং পদ্ধতি সেখানে সরাসরি নমুনায় আরএনএ ভাইরাসকে চিহ্নিত করে। কোনও অদলবদলের দরকার পড়ে না। সেটা কেমন? বিজ্ঞানী মেলানি ও দৌদনা বলেছেন, জিন এডিটিং মানে হল কোনও নির্দিষ্ট জিনকে চিহ্নিত করে তাকে কাটাছেঁড়া করা। অর্থাৎ সেই জিনে যদি কোনও খারাপ কিছু থাকে তাকে ছেঁটে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় সঠিক জিনকে বসিয়ে দেওয়া। এখন কোভিড টেস্টের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে এমন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে যা রোগীর থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে। সাধারণত ক্রিসপার পদ্ধতিতে ক্যাস ৯ (Cas9) নামক প্রোটিন ব্যবহার করা হয় যা ডিএনএকে চিনে নিয়ে কাঁটাছেড়া করতে পারে। তবে নতুন টেস্ট কিটে ক্যাস ১৩ (Cas 13) প্রোটিন ব্যবহার করা হচ্ছে যা সরাসরি আরএনএকে চিনে নিতে পারে।
রোগীর নমুনায় এই প্রোটিন যোগ করলে তা সটান আরএনএ ভাইরাসের স্ট্রেনে গিয়ে জুড়ে যাবে। যে মুহূর্তে এই প্রোটিন ভাইরাল স্ট্রেনে গিয়ে জুড়বে একটা চকমকে আলো বা ফ্লুরোসেন্ট লাইট বের হবে। এই আলোই হল সঙ্কেত। ডিভাইসের সঙ্গে যোগ থাকবে স্মার্টফোন ক্যামেরার। সেখানেও আলোর সঙ্কেত দেখে বোঝা যাবে ভাইরাস ধরা পড়েছে। ফোন ক্যামেরা তখন ঠিক মাইক্রোস্কোপের মতো কাজ করবে। নমুনা ভাইরাস পজিটিভ না নেগেটিভ প্রমাণসহ দেখিয়ে দেবে।
গবেষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ভুলত্রুটি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। শরীরে ভাইরাস আছে কিনা এবং কী পরিমাণে আছে সবটাই পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়বে এই পদ্ধতিতে।