দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি কি মার্শাল আইন জারি করছেন! রাজ্যসভায় মার্শালদের নতুন পোশাক দেখে এই মন্তব্যই করেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও মঙ্গলবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু আশ্বাস দেন যে, রাজ্যসভার সচিবালয় এই পোশাকবিধি খতিয়ে দেখবে।
সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দু’পাশে থাকা মার্শালদের সেনার স্টাইলে পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আগে ভারতীয় ধাঁচে গলাবন্ধ পোশাক ও পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখা যেত মার্শালদের, তার বদলে ঘন নীল রঙের পোশাক, মাথা পিকক্যাপ, কাঁধে সোনালি রঙের টাসেল পরিহিত মার্শালদের দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান।
শনিবার সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, “বিভিন্ন প্রস্তাব বিচার-বিবেচনা করে রাজ্যসভার মার্শালদের এই পোশাকবিধি কার্যকর করেছে রাজ্যসভার সচিবালয়। আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে কয়েকটি পরামর্শ পেয়েছি। আমি ঠিক করেছি এবিষয়ে রাজ্যসভার সচিবালয়ের সঙ্গে কথা বলব ও বিষয়টি তাঁদের পুনর্বিবেচনা করতে বলব।”
পোশাক নিয়ে প্রথম প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ। সোমবার তিনি জানতে চান, মার্শাল আইন জারি হয়েছে কিনা। তখন নাইডু বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি এমন অপ্রাসঙ্গিক কথা শুনতে চান না। বেলার দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্যসভার মার্শালদের এই পোশাকবিধির সমালোচনা করেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান বেদ মালিক, তিনি একে বেআইনি ও নিরাপত্তার পক্ষে সমস্যাউদ্রেককারী বলে উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুকে ট্যাগ করে একটি টুইট করেন। তাতে লেখেন, এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের।
সাংসদের সহায়তা করার জন্য যে কর্মীরা থাকেন, তাঁদের সঙ্গে মার্শালদের পার্থক্য করা যেত না বলে মাস ছয়েক আগেই মার্শালদের পোশাকবিধি বদলের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। মার্শাল ও ডেপুটি মার্শালরা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন সভার কাজ পরিচালনায় তাঁকে সহায়তা করার জন্য।
রাজ্যসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পোশাকের নকশা রাজ্যসভাতেই তৈরি, এ ব্যাপারে তাঁরা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইনের সঙ্গে পরামর্শ করেননি।
সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে সোমবার। তবে এবার রাজ্যসভার অধিবেশনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। বর্তমান অধিবেশন হল রাজ্যসভার ২৫০তম অধিবেশন। এই অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজ্যসভার মহিমা তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিতর্কে যোগ দেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও।