দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগে (Jallianwala bagh) গণহত্যা চালায় ব্রিটিশ সেনা। স্বাধীনতার পরে সেখানে একটি শহিদ স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্মারক জীর্ণ হয়ে পড়ে। তাই সরকার স্মৃতিস্তম্ভটি সারানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। নবরূপে নির্মিত জালিয়ানওয়ালাবাগের স্মৃতিস্তম্ভ গত ২৮ অগাস্ট জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ইতিহাসবিদরা সেই স্মৃতিস্তম্ভ দেখে বলছেন, ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। সেখানে যে এতবড় দুঃখের ঘটনা ঘটে গিয়েছিল তা স্মৃতিস্তম্ভ দেখে মনেই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এটি একটি বেড়ানোর জায়গা।
জালিয়ানওয়ালাবাগের পুরানো স্মৃতিস্তম্ভটি নবরূপে নির্মাণ করা হয়েছে দেড় বছর ধরে। প্রধানমন্ত্রী কার্যত স্মৃতিস্তম্ভের নতুন গ্যালারিগুলির উদ্বোধন করেন। ব্রিটিশ সেনাপতি রেজিনাল্ড ডায়ারের সৈন্যদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেকে কুয়োয় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সেই কুয়োটি বর্তমানে একটি স্বচ্ছ আবরণে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। জালিয়ানওয়ালাবাগের ময়দানে ঢোকার সরু পথটি সাজানো হয়েছে ভাস্কর্য দিয়ে। এছাড়া সেখানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো-এর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক চমন লাল বলেন, জালিয়ানওয়ালাবাগের ইতিহাসকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ওই জায়গাটি এমনভাবে সাজানো উচিত যাতে সেখানে গেলে দর্শক শহিদদের জন্য বেদনা অনুভব করেন। কিন্তু এখন জালিয়ানওয়ালাবাগকে যেভাবে সাজানো হয়েছে, তাতে সেখানে গেলে দর্শক আনন্দ অনুভব করবেন। সেখানে একটি প্রমোদ উদ্যানও গড়ে তোলা হয়েছে। এটা একেবারেই উচিত হয়নি।
বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব বলেন, "জালিয়ানওয়ালাবাগ স্মৃতিস্তম্ভের কাছে ভাল ক্যাফে বা শৌচাগারের ব্যবস্থা নিশ্চয় থাকা উচিত। কিন্তু সেখানে পুনর্নির্মাণের নামে ইতিহাসকে ধ্বংস করা হয়েছে।" পরে তিনি বলেন, জালিয়ানওয়ালাবাগে একটি ঝলমলে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। সেখানকার দেওয়ালে ম্যুরাল তৈরি করা হয়েছে কেন? ময়দানে ঢোকার সরু রাস্তাটিও সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এককথায় পুরো স্মৃতিস্তম্ভের কর্পোরেটাইজেশন হয়েছে।
ইরফান হাবিবের মতে, কুয়োটি ঢেকে দেওয়া উচিত হয়নি। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ তথা জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যা নিয়ে বইয়ের লেখক কিম এ ওয়াগনার বলেন, ওই অঞ্চল থেকে ইতিহাসের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলা হয়েছে।
শহিদ স্তম্ভের পুনর্নির্মাণের প্রকল্প কার্যকর করার দায়িত্বে ছিল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এবং এনবিসিসি। আমেদাবাদের বর্মা কমিউনিকেশনসকে নির্মাণকার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ওই সংস্থা ন্যাশনাল পুলিশ মিউজিয়াম এবং রাজকোটে মহাত্মা গান্ধী মিউজিয়ামের পুনর্গঠন করেছে।