দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে দিকে চোখ যায় জল আর জল। রাস্তা, স্কুল বাড়ি, বসত ভিটে— সবই প্রায় জলের তলায়। এর মধ্যেই কনেকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে গিয়ে কালঘাম ছুটল গ্রামবাসীদের।
বিহারের যোগবানির গরহা গ্রামের বাসিন্দা তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল বেশ কয়েকদিন আগে৷ অনুষ্ঠানের দিন যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়তে শুরু করে বৃষ্টির দাপট। তারপর বন্যা পরিস্থিতি। কিন্তু তা বলে তো আর বিয়ে আটকানো যায় না! অবিরাম বৃষ্টিতে একটু একটু জলস্তর যেমন বেড়েছে, তেমনই পাল্লা দিয়েছে বর-কনের পরিবারের দুশ্চিন্তা৷ কী ভাবে মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাবেন, তা ভেবেই রাতের ঘুম ছুটেছিল পরিবারের।
বৃষ্টি না হলে পালকিতে চাপিয়ে রাজকন্যার মতো শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে পাঠানোর ভাবনা ছিল কনের পরিজনদের৷ কিন্তু বাধ সাধল বৃষ্টি৷ জল থইথই রাস্তায় তো আর ‘হুন হুনা হুন হুনা’ ধ্বনি তুলে পালকি চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই বিকল্প ভাবনাচিন্তা করেন কনের পরিজনেরা৷ এই পরিস্থিতিতে একমাত্র বাঁচাতে পারে নৌকা৷ কনের পরিজনেরা বলেন, ‘‘জলে ভাসমান জার এবং কাঠের সাহায্যে একটি নৌকা তৈরি করি আমরা৷ তাতেই মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর পরিকল্পনা করি।”
যেমন ভাবনা তেমন কাজ৷ রাতভর পরিশ্রম করে অভিনব নৌকা তৈরি করেন কনের পরিজনরা৷ বৈবাহিক রীতি শেষ হওয়ার পর ওই নৌকা চেপেই পাড়ি দেন নবদম্পতি। বর-কনে বসে কাঠের পাটাতনে। তা ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। স্বামীকে আঁকড়ে ধরেছেন স্ত্রী। কাজ করছে ভয়। ভারী শাড়ি, গয়না নিয়ে জলে পড়লে আর রক্ষে নেই! জলমগ্ন এলাকায় এই ভোগান্তির দিন কবে শেষ হবে, এই চিন্তার মাঝেও নবদম্পতির অভিনব যাত্রা দেখে মুখে হাসি ফুটেছে পরিজনদের। অবশেষে ভালোয় ভালোয় মেয়ে-জামাইকে পার করা গিয়েছে!