
শেষ আপডেট: 23 August 2023 08:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নীল আর্মস্ট্রং (Neil Armstrong) চাঁদের নেমেছিলেন ১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই। সেই থেকেই কেরলে একটা কৌতুক খুব প্রচলিত। তা হল চাঁদে নেমেই নাকি আর্মস্ট্রং দেখতে পান এক মালায়ালি চাওয়ালা (কেরলের বাসিন্দা)(Malayali tea seller) চায়ের দোকান খুলে চা বিক্রি করছেন!
ব্যাপারটা কী!
কাজের খোঁজে কেরলের বাসিন্দারা ঐতিহাসিক ভাবেই গোটা বিশ্বে পারি দিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়া তথা গাল্ফ রাষ্ট্রগুলিতে তাঁরা ছেয়ে রয়েছেন। পৃথিবীর হেন কোনও মহাদেশ বা দেশ নেই যেখানে কেরালাইটা তথা মালায়ালিরা কাজের খোঁজে যাননি।
কেরলে প্রচলিত কৌতুক হল, নীল আর্মস্ট্রং যখন তাঁদের অ্যাপোলো মহাকাশ যান নিয়ে চাঁদে পৌঁছন, তখন স্বাভাবিক ভাবে বেশ উৎফুল্ল ছিলেন। আর্মস্ট্রং নাকি তাঁর মহাকাশ যানে বসে ভাবছিলেন, কোন পা আগে চাঁদের মাটিতে ফেলবেন—বাঁ পা না ডান পা। চাঁদে নেমে কীভাবে ক্যামেরার সামনে পোজ দেবেন সেই ভাবনাও নাকি তাঁর মাথায় ঘুর ঘুর করছিল। ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনিই হতে চলেছেন প্রথম মানুষ, যিনি চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন।
কিন্তু চাঁদে নামার আগেই তিনি শুনতে পান কেউ যেন চিৎকার করছেন বাইরে—‘চায়ে চায়ে-কাপি কাপি (কফি)’! ঠিক যেমন বড় স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে বাইরে চাওয়ালারা করেন। তা দেখেই আর্মস্ট্রংয়ের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। তার পর দরজা খুলে প্রথমে বাঁ পা চাঁদের মাটিতে রাখেন আর্মস্ট্রং। মুড অফ। বেজায় হতাশ। দেখেন যে তাঁর আগেই চাঁদে পৌঁছে গিয়েছিলেন মালায়ালি চাওয়ালা! তাঁর চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন আর্মস্ট্রং। তার পর চাওয়ালা তাঁকে কাঁচের ছোট গ্লাসে এক কাপ দুধ চা দেন। আর্মস্ট্রং জানতে চান, তুমি এখানে? কীভাবে এলে? চাওয়ালা জানান, কাজের খোঁজে স্যার। এখন শুনছি প্রচুর মানুষ চাঁদে আসবেন। তাই আগে ভাগে এসে দোকান খুলেছি।
পরবর্তীকালে এই এক গল্প বিহারেও সংক্রমিত হয়। বিহারেও এই এক গল্প প্রচলিত রয়েছে যে নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে নেমে দেখতে পান এক বিহারী চা বিক্রি করছেন। রাজ্যসভায় একটা বিতর্কে সেই গল্পের কথা বলেছিলেন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা। কারণ, বিহারের লোকজনও কাজের খোঁজে বহু বছর ধরেই পরিযায়ী। চন্দ্রযানের চাঁদের অবতরণের সময়ে সেই গল্প আবার ফিরে এসেছে। যার নেপথ্যে রয়েছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তবে তাঁর কৌতুক বুঝতে না পেরে অনেকেই বেশ সমালোচনা করেছেন প্রকাশের। মামলাও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: বালি দিয়েই তৈরি চন্দ্রযান, চাঁদ, মহাকাশ! 'সুদর্শন' শিল্পে সাফল্য কামনা পুরীর সৈকতে