দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেহের বশে গণপ্রহার। আর তার জেরে মৃত্যু। গত কয়েকমাসে ভারতে এটা পরিচিত ছবি। আসাম হোক কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র হোক কিংবা বাংলা জনরোষের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। কখনও ছেলেধরা, কখনও বা গরু পাচারকারী। সন্দেহ হলেই শুরু হচ্ছে বেধড়ক মার।
তবে এই ঘটনার শুরুটা অনেক আগেই হয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল। প্রায় শ'দুয়েক স্বঘোষিত গো-রক্ষক গরু পাচারকারী সন্দেহে পিটিয়ে খুন করেছিল পেহলু খানে নামের এক ব্যক্তিকে। ঘটনাস্থল রাজস্থানের আলোয়ার জেলা। এরপর ক্যালেন্ডারে বছর ঘুরেছে। কিন্তু আলোয়ারের ছবিটা একই রয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের ২০ জুলাই এই আলোয়ারেই ফের গরু পাচারকারী সন্দেহে গণপ্রহারে নিহত হয়েছেন বছর আঠাশের যুবক আকবর খান।
বেধড়ক মার খাওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় এক হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান রাস্তাতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। আর এর পরেই প্রকাশ্যে এসেছে এক নতুন তথ্য। গাড়ির ভিতরে যখন গুরুতর জখম হয়ে কাতরাচ্ছিলেন আকবর সে সময় রাস্তার পাশের দোকানে চা খাচ্ছিলেন পুলিশরা। যে সময়ে তাঁদের উচিত ছিল তাড়াতাড়ি আকবরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সে সময়ে কার্যত আয়েশ করছিলেন তাঁরা।
শুক্রবার রাতে আলোয়ারের লালাওয়ান্দি গ্রামের কাছে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে আকবর ও আরেক ব্যক্তি দুটি গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁদের উপর চড়াও হয় একদল ব্যক্তি। গরু পাচারকারী সন্দেহে শুরু হয় বেদম প্রহার। জানা গিয়েছে, খবর পেয়ে সেদিন গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশবাহিনী। রাত একটা নাগাদ আকবরকে উদ্ধার করেন তাঁরা। কিন্তু হাসপাতালের রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, আকবরকে হাসপাতালে আনা হয় ভোর চারটে নাগাদ।
তাহলে এই তিন ঘণ্টা কী করছিল পুলিশ? যে রাস্তা যেতে খুব বেশি হলে ৪৫ মিনিট সময় লাগার কথা সেটা পৌঁছোতে তিন ঘণ্টা কীভাবে লাগল সেই প্রশ্নই এখন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
রাত একটা থেকে ভোর চারটে অবধি ঠিক কী কী করছিল পুলিশ তা জানতে গিয়েই উঠে এসেছে একের পর পুলিশি গাফিলতির চিত্র। জানা গিয়েছে, আকবরকে উদ্ধারের পর প্রথমে গাড়ি জোগাড় করে ঘটনাস্থলে থাকা গরুগুলির ব্যবস্থা করে পুলিশ। তারপর আহত আকবরকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় থানায়। সেখানে তাঁকে স্নান করানো হয়। এর পর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন তারা। কিন্তু সোজা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি আকবরকে। বরং সে সময়ে গাড়ি থামিয়ে রীতিমতো আয়েশ করে চা খেয়েছেন পুলিশ কর্মীরা। এমনটাই দাবি করেছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
কিন্তু কেন এই বিলম্ব হলো তার কোনও সদুত্তর এখনও মেলেনি। এই খবর প্রকাশ্যে আসায় সবার মুখে এখন একটাই কথা। চা খাওয়াটা বাদ দিয়ে আর কিছুক্ষণ আগে হাসপাতালে পৌঁছোলে বোধহয় প্রাণে বেঁচে যেত ছেলেটা।