
শেষ আপডেট: 11 November 2019 09:35
প্রদর্শনী চলাকালীন ৭২ বছর বয়সী জাহি হাওয়াস দাবি করেছেন, নেফারতিতির সমাধিতে তাঁরা পৌঁছে যাবেন হয়তো এই সপ্তাহেই। তিনি বলেন, “আমাদের এই উৎখননের লক্ষ্যই হল নেফারতিতির সমাধি আবিষ্কার করা। ৩০০০ বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, ওই সময়টিকে আমরা ধরতে পারব।”
পরে তিনি বলেন, “বেরিইবিটার সমাধির পিছনে কিছু একটা রয়েছে, আমরা এক সপ্তাহ বা মোটামুটি ওই সময়ের মধ্যে কিছু একটা খুঁজে পাব বলে আশা করছি।”
মিশরের কিংস ভ্যালিতে এখনও পর্যন্ত ৬২টি সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে।
খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩০ অব্দে মৃত্যু হয়েছে নেফারতিতির। মিশরবিদদের ধারনা, খিস্টপূর্ব ১৩৫৩ থেকে ১৩৩৬ অথবা খিস্টপূর্ব ১৩৫১ থেকে ১৩৩৪ অব্দে তিনি মিশরের শাসক ছিলেন।
ফারাও আখেনাতেনের চার জন স্ত্রী ছিলেন, নেফারতিতি ছিলেন অন্যতমা। হাওয়াস বলেন, “আমার ধারনা, অষ্টাদশ বংশের সব রানির সমাধি এখানেই রয়েছে। হাওয়ার্ড কার্টারের পরে আমার উৎখননের ব্যাপ্তিই সবচেয়ে বেশি, আমি আশা করছি রাজসমাধির খোঁজ আমি পাব।” তুতানখামুনের সমাধি আবিষ্কার করেছিলেন কার্টার।
[caption id="attachment_158046" align="aligncenter" width="600"]
নেফারতিতি সম্বন্ধে জানা যায় ১৯১২ সালে, তাঁর মূর্তিটি আবিষ্কারের পরে।[/caption]
প্রাচীন মিশর শাসন করেছে বহু রাজবংশ। অষ্টাদশ রাজবংশের রাজা ছিলেন আখেনাতেন; তুতানখামুন তাঁরই ছেলে। মিশরের ওই রাজবংশে নিজেদের আত্মীয়র মধ্যেই বিয়ের চল ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তুতানখামুন বিয়ে করেছিলেন তাঁর সৎবোন তথা নেফারতিতির মেয়েকে।
নেফারতিতির কথা অবশ্য ইতিহাস ভুলেই গিয়েছিল। কিন্তু ১৯১২ সালে তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তি পান জার্মান পুরাতত্ত্ববিদ লুদউইগ বরখার্দৎ। মনে করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪৫ অব্দে মিশরের আমার্নায় এই মূর্তিটি তৈরি করেন তুথমোজ নামে এক ভাস্কর। মূর্তিটি এখন জার্মানির বার্লিনের একটি জাদুঘরে রয়েছে। তবে এই মূর্তিটি নিয়ে জার্মানি ও মিশরের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। মিশর এই মূর্তিটি ফিরে পেতে চায়।
[caption id="attachment_158050" align="aligncenter" width="600"]
দেওয়ালে খোদাই করা নেফারতিতি।[/caption]
তুতানখামুনের সার্কোফেগাস (শবাধার) ঠিক যে অংশটি থেকে পাওয়া গিয়েছিল, সেই অংশটি অন্য ফারাওদের সমাধির ঘরের তুলনায় একেবারেই বেমানান। তাই অনেক মিশরবিদেরই ধারনা, ওই সমাধির একটি দেওয়ালের পিছনে রয়েছে নেফারতিতির সমাধি। যন্ত্রের সাহায্যে একটি দেওয়ালের পিছনে ফাঁকা জায়গার সন্ধানও পাওয়া গেছে অনেক আগেই। কিন্তু কোনও ভাবে সেই দেওয়ালের ক্ষতি চান না পুরাতত্ত্ববিদরা। তাই সেই অংশের পিছনে কী আছে তা জানতে সমস্যা হচ্ছিল পুরাতত্ত্ববিদদের। এখন অন্য ভাবে উৎখনন করে নেফারতিতির সমাধিতে পৌঁছাতে চাইছেন পুরাতত্ত্ববিদরা।