
শেষ আপডেট: 25 August 2020 18:30
বাড়ি হায়দরাবাদে। দিল্লি ইউনিভার্সিটির সেন্ট স্টিফেন কলেজে অঙ্কে অনার্স করছেন নীলকান্ত। মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই চারটি বিশ্বরেকর্ড করে ফেলেছেন। ৫০টি লিমকা রেকর্ডও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কম্পিউটারের থেকেও তাড়াতাড়ি অঙ্ক কষে গোটা বিশ্বেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন হায়দরাবাদের তরুণ।
লন্ডনে এ বছর মাইন্ড স্পোর্টস অলিম্পিয়াডের প্রতিযোগিতা ভার্চুয়ালি হয়েছিল। ব্রিটেন, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, গ্রিস সহ বিশ্বের ১৩টি দেশের মোট ৩০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। ভারত থেকে ছিলেন নীলকান্ত। জানিয়েছেন, তাঁর বয়সী তরুণ, তরুণী যেমন ছিলেন তেমনি ৫৭ বছর বয়সী অঙ্কের শিক্ষক, গণিতবিদরাও ছিলেন। সকলকে হারিয়ে সেরার শিরোপা জিতে নিয়েছেন তিনিই। তরুণের কথায়, “লন্ডনে মাইন্ড স্পোর্টস অলিম্পিয়াডে ভারতের জন্য সোনা জিতেছি আমি। নিজের সাফল্য শুধু নয়, দেশের জন্য গর্বিত। ভারতে প্রথম কেউ মেন্টাল ক্যালকুলেশন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল।”
নীলকান্ত বলেছেন, তাঁর সঙ্গে জোর টক্কর হয়েছিল এক লেবানিজ প্রতিযোগীর। তবে তিনি ৬৫ পয়েন্টে হারিয়ে দিয়েছেন তাঁকে। তৃতীয় হয়েছেন সৌদি আরবের এক প্রতিযোগী।
গণিতবিদ হতে চান নীলকান্ত। অঙ্কের বিষয়ে যত রকমের প্রতিযোগিতা হবে বিশ্বে, তার সবেতেই যোগ দেওয়ার ও সেরার শিরোপা জেতার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। নীলকান্ত বলেছেন, দেশে তাঁরই মতো ছাত্রছাত্রীরা রয়েছেন যাঁদের গণিতে মেধা অসাধারণ। হয় তাঁরা সঠিক প্রশিক্ষণ পান না, নয়তো অভাবের কারণে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন। মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য দেশে ‘ম্যাথ ল্যাব’ তৈরির ইচ্ছা আছে নীলকান্তের। জানিয়েছেন, তাঁর পরিকল্পনা ‘ভিশন ম্যাথ’ । লক্ষ্য লক্ষ্য ছেলেমেয়েকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে পারে এই প্রকল্প। এই বিষয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
“অঙ্ক নিয়ে ভয় রয়েছে আমাদের দেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরই। অঙ্ক মানেই তাদের কাছে আতঙ্ক। এই ভয় দূর করতে হবে। অঙ্ক কষার মধ্যেও যে আনন্দ আছে সেটা বোঝাতে হবে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের,” বলেছেন নীলকান্ত। জানিয়েছেন, দেশের সর্বশিক্ষা অভিযানের একটা অংশ হতে পারে এই ‘ভিশন ম্যাথ’ । দেশের মেধাবী পড়ুয়াদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে জাতীয় স্তরে শুধু নয় ভারতীয় পড়ুয়াদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও। এই লক্ষ্যের দিকেই এগোতে চান ‘হিউম্যান ক্যালকুলেটর’ নীলকান্ত ভানু প্রকাশ।