
শেষ আপডেট: 25 March 2020 18:30
তার মানে কি গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলি এই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত? ফৌসি বলেছেন, এখনও পরীক্ষায় সেটা প্রমাণিত হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে যেহেতু সার্স বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতোই সার্স-কভ-২ শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে আগে, তাই মনে করাই যায় এই ভাইরাসও মরসুম ভেদে তার রূপ বদলাতে পারে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ ফুসফুসের দফারফা করে। এর প্রাথমিক উপসর্গই সর্দি-কাশি, জ্বর ও তীব্র শ্বাসকষ্ট। সেখান থেকে রোগী আক্রান্ত হয় নিউমোনিয়ায়। ঠান্ডার সময় এই জাতীয় রোগে মানুষ বেশি কাবু হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে, তাই সেই সময়েই তাই তাণ্ডব চালাতে পারে করোনার এই নয়া স্ট্রেন।
আমেরিকার বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাদার্ন হেমিস্ফিয়ারের দেশগুলিতে শীতের মরসুম শুরু হতে যাচ্ছে। তাই বিপদের ঝুঁকি তাদের বেশি। বিশেষত আফ্রিকার দেশগুলি, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পেরুতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিনের বিজ্ঞানীরও এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাঁরাও বলেছিলেন নিশ্চিত না হলেও এটা মনে করা হচ্ছে ঠান্ডার সময় এই ভাইরাসের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা আরও বাড়ে। ড. অ্যান্থনি ফৌসি বলছেন, প্রকোপ কমা মানেই ভাইরাস নির্মূল হয়ে যাচ্ছে তেমনটা নয়। যতদিন না ভ্যাকসিন বাজারে আসছে, ততদিন আশঙ্কা-মুক্ত হতে পারবে না বিশ্ব।
আমেরিকা ও চিনে ভ্যাকসিন তৈরির তোড়জোড় চলছে। ড. ফৌসি বলেছেন, আমেরিকা ভ্যাকসিন তৈরির খুব কাছাকাছি চলে গেছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH)-এর তত্ত্বাবধানে অ্যান্টিভাইরাল-ভ্যাকসিন বানিয়েছে ম্যাসাচুসেটসের বায়োটেকনোলজি সংস্থা মোডার্না (Moderna)। এই ভ্যাকসিনের নাম এমআরএনএ-১২৭৩ (mRNA-1273) । এর কাজ হবে ভাইরাল প্রোটিনগুলোকে প্রতিরোধ করা। তার জন্য মেসেঞ্জার আরএনএ বা mRNA সিকুয়েন্সকে কাজে লাগাচ্ছে তারা। ইবোলার ড্রাগ ‘রেমডেসিভির’ (Remdesivir) নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছেন আমেরিকার বিজ্ঞানীরা। করোনার সংক্রমণ রোখার মতো ক্ষমতা নাকি আছে এই ড্রাগের। তাতে সম্মতি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)।