দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহেই সরকারি তথ্যে জানা গিয়েছে, ভারতের জিডিপি সংকুচিত হয়েছে ২৩.৯ শতাংশ হারে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, সরকার ও তার আমলারা যেন আত্মসন্তুষ্টিতে না ভোগে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয়ের যথেষ্ট কারণ আছে। ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য এখনই রিলিফ ঘোষণা করতে হবে। না হলে অর্থনীতির বিকাশ ধাক্কা খাবে ভীষণভাবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নরের ধারণা, মনে হচ্ছে, সরকার এই পরিস্থিতিতে গুটিয়ে খোলসের ভিতরে আশ্রয় নিয়েছে।
রঘুরাম রাজন বর্তমানে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তাঁর মতে, "ভারতের অর্থনীতি উঁচু হারে বিকশিত হওয়া চাই। তবেই তরুণদের আশা-আকাঙ্খা মেটানো যাবে। শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশীকেও পরাস্ত করা যাবে।" এরপরে তিনি বলেন, "সরকার ও তার আমলারা যথেষ্ট পরিশ্রমী। কিন্তু তারা যেন আত্মসন্তুষ্ট না হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয়ের যথেষ্ট কারণ আছে।"
সরকারের সমালোচনা করে অর্থনীতিবিদ রাজন বলেন, "সরকার এখন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য আরও বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা সম্পদ জমিয়ে রাখছে। ভাবছে, আগামী দিনে বড় উৎসাহদান প্রকল্প ঘোষণা করা যাবে। এই কৌশলে কাজ হবে না।"
রাজনের বক্তব্য, "আপনি যদি অর্থনীতিকে রোগীর সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে তার শরীরে একটাই ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। ওষুধের নাম হল রিলিফ। তবেই সে সুস্থ হয়ে উঠবে। রোগের সঙ্গে লড়াই করতে পারবে।" এরপরে তিনি বলেন, "অর্থনীতিকে যদি এখনই রিলিফ যোগানো না যায়, তাহলে অনেক পরিবার অভুক্ত থেকে যাবে। তাঁরা সন্তানদের আর স্কুলে পাঠাবেন না। তার বদলে কাজে বা ভিক্ষা করতে পাঠাবেন। ঘরের সোনাদানা বন্ধক দেবেন। ঋণশোধ করতে পারবেন না।" ছোট ও মাঝারি শিল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "রিলিফ না পেলে ছোট ছোট রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থা হবে শোচনীয়। তাদের কর্মীরা বেতন পাবেন না। রেস্তোরাঁর মালিক ঋণ শোধ করতে পারবেন না। হয়তো রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।"
রাজনের মতে, উৎসাহদান প্রকল্প একটা টনিকের মতো। যদি রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, টনিক কোনও কাজে লাগে না। সম্প্রতি গাড়ির বিক্রি কিছু পরিমাণে বেড়েছে বটে কিন্তু তাতে তেমত আশার কিছু আছে বলে রাজন মনে করেন না। তাঁর মতে, "দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা চাহিদার জন্যই গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমে আসবে।"