দ্য ওয়াল ব্যুরো : নতুন কৃষি আইনের বিরোধিতা করে কয়েকমাস আগেই এনডিএ ছেড়েছে অকালি দল। এবার বিজেপি জোটের আরও এক শরিক রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি দাবি তুলল, যে তিনটি কৃষি আইন নিয়ে দিল্লিতে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, সেগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আরএলপি-র তরফে রাজস্থানের সাংসদ হনুমান বেনিওয়াল বলেছেন, দাবি না মানলে তাঁরা এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন। তিনি চান, কেন্দ্রীয় সরকার এখনই কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক।
বেনিওয়াল সোমবার টুইট করে বলেন, "কৃষকদের আন্দোলনের প্রতি সারা দেশের মানুষের সমর্থন আছে। তাই নতুন তিনটি আইন অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশগুলিও মেনে নেওয়া উচিত।" পরে বেনিওয়াল লিখেছেন, "আমাদের দল এনডিএ-র শরিক। এই দলের প্রধান শক্তি কৃষক ও জওয়ানরা। আমাদের ভেবে দেখতে হবে আমরা আর এনডিএ-র শরিক থাকব কিনা।"
আরএলপি-র সাংসদ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, হরিয়ানা বা দিল্লির প্রতিবেশী অপর কোনও রাজ্য যেন কৃষকদের ওপরে দমনপীড়ন না চালায়। বেনিওয়াল টুইট করে বলেন, "কোনও রাজ্য যদি কৃষক আন্দোলন দমন করতে যায়, আমাদের দল দেশ জুড়ে বিক্ষোভ দেখাবে।"
রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লিতে বিক্ষোভরত কৃষকদের বলেছিলেন, একটি শর্তে সরকার তাঁদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে পারে। তা হল, বিক্ষোভকারীরা যত্রতত্র জমায়েত করতে পারবেন না। তাঁদের দিল্লির উপকণ্ঠে বুরারি অঞ্চলে জমায়েত করতে হবে। আন্দোলনকারীরা সেই অনুরোধ রাখতে অস্বীকার করেন। এরপর রবিবার রাতেই বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডার বাড়িতে জরুরি বৈঠকে বসেন শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর।
আন্দোলনরত কৃষকরা হুমকি দিয়েছেন, তাঁরা দিল্লিতে ঢোকা-বেরোনর পাঁচটি রাস্তা বন্ধ করে দেবেন। বিজেপি নেতারা রবিবার রাতে কৃষক বিক্ষোভ নিয়েই বৈঠক করেন। আলোচনা চলে দু'ঘণ্টা।
কৃষকরা যে পাঁচটি রাস্তা বন্ধ করে দেবেন বলেছেন, তার মধ্যে আছে সোনিপত, রোহতক, জয়পুর, গাজিয়াবাদ-হাপুর এবং মথুরা। সোমবার সকালেই দিল্লি পুলিশ শহরের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে, ওই রাস্তাগুলি এড়িয়ে চলুন। কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা সরকারের সঙ্গে 'খোলা মনে' কথা বলতে চান। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনার পূর্বশর্ত আরোপ করেছে। সুতরাং তাঁরা বুরারিতে যাবেন না।
কৃষকদের আশঙ্কা, তাঁরা সকলে যদি বুরারিতে জড়ো হন, ওই জায়গাটি অস্থায়ী জেলখানা বানিয়ে ফেলা হবে। এর আগে দিল্লি পুলিশ শহরের পাঁচটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেল বানানোর জন্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। তার পর থেকেই অনেকে আশঙ্কা করছেন, বুরারিকেও অস্থায়ী জেল বানিয়ে ফেলা হতে পারে।