
শেষ আপডেট: 19 February 2024 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির গ্রাউন্ড জিরোয় জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা। রবিবার জানা গেছিল তিনি শহরে আসছেন সন্দেশখালি যাওয়ার জন্য। সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়ে রেখা শর্মা কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখেন।
শহরে নেমে সন্দেশখালি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এলাকার মহিলাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলবেন তিনি। রেখা জানান, সন্দেশখালির মহিলাদের সব কথা যাতে তিনি শুনতে পারেন সেই জন্য হাতে সময় নিয়ে এসেছেন। তাঁর অভিযোগ, মহিলারা তাঁদের সমস্যার কথা বলতে চান। কিন্তু অনেকে তাঁদের বাধা দিচ্ছে। তাঁর চেষ্টা থাকবে সন্দেশখালির প্রত্যেক নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ শোনা। সন্দেশখালি পৌঁছে সেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এলাকায় এলাকায় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন রেখা শর্মা।
বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে সন্দেশখালিতে গ্রামবাসীদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার হোক কিংবা পুলিশ, তাঁরা জানিয়েছে মহিলাদের তরফে কোনও অভিযোগ নেই। বীরভূমের সভা থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "কোনও মহিলা এখনও এফআইআর করেননি। একটাও ধর্ষণের অভিযোগ নেই। আমি পুলিশকে বলেছি, সব কিছু ভাল করে তদন্ত করে দেখতে। প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করতে।"
এলাকা ঘুরে আসার পর মঙ্গলবার রেখা শর্মা রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে সূত্রের খবর। এর আগে জাতীয় মহিলা কমিশনের কয়েকজন প্রতিনিধি সন্দেশখালিতে গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। দিল্লি ফিরে গিয়ে কমিশনে রিপোর্ট জমা দেন তাঁরা।
গত কয়েকদিন ধরে সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপরে নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের সঙ্গী শিবপ্রসাদ হাজরা এবং উত্তম সর্দারের ইন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চলত সন্দেশখালিতে। যদিও এখন এই দুজন গ্রেফতার হয়েছেন। তবে এখনও অধরা শেখ শাহজাহান।
গ্রামবাসীদের অভাব-অভিযোগ শুনতে সন্দেশখালিকাণ্ডে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে জনসংযোগ কর্মসূচি। সন্দেশখালির বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করা হয়েছে এলাকাবাসীর জন্য। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকছে সেই ক্যাম্প। সেখানে উপস্থিত থাকছেন সরকারি আধিকারিকরা। গ্রামবাসীদের যাবতীয় অভিযোগ সংগ্রহ করছেন তাঁরা।